বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উদাহরণ দিতে চাইলে এমন আরও অনেক রাফিকা পাঠান, আফরিন হক ও মাইশা মমতাজকে খুঁজে পাওয়া যাবে, যাঁদের স্বপ্নকে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে দানবরূপী যানবাহনগুলো। এসব ঘটনা বারবার আমাদের ঢাকা দক্ষিণ সিটির ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় নিহত মাহবুব হাবিবের মর্মান্তিক মৃত্যুকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

আজ আমি আমার বয়সী শিক্ষার্থীদের হতাহত হওয়া নিয়ে লিখছি। কাল যে ওই দানবরূপী বাস-ট্রাকগুলো আমাকে পিষে ফেলবে না, এ নিশ্চয়তা কে দেবে?

এ দেশের শিক্ষার্থীরা আজ থেকে ৩ বছর ৮ মাস আগে ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে তুমুল আন্দোলন করেছিল। শিক্ষার্থীদের সেই তীব্র আন্দোলনের পরও সড়কে একটুও শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি বরং সড়কে মৃত্যুর মিছিল আরও বেড়ে গেছে। তাই তো আজ আমাদের মাইশা, আফরিন, নাঈমের মতো নিষ্পাপ প্রাণগুলোর মর্মান্তিক মৃত্যু দেখতে হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, গত বছরের নভেম্বরে কলেজ শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের পর ঢাকায় শিক্ষার্থীরা আবারও সড়কে নামে। এর আগে হাফ পাস নিয়েও আন্দোলন দেখি আমরা।

শিক্ষার্থীদের এতবার আন্দোলনের পরও এ দেশে অজস্র অবৈধ যান রাস্তায় চলছে, লাইসেন্সবিহীন অসংখ্য চালক সেগুলো চালাচ্ছেন। এ কারণে আজ আমরা প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকাগুলো খুললেই সড়কে মৃত্যুর মিছিলের সংবাদ পাই।

কথা হচ্ছে, এত আন্দোলনের পরও যে দেশে সড়ককে নিরাপদ করে তোলা সম্ভব হয়নি, সে দেশে আর কী করলে নিরাপদ সড়ক পাওয়া যাবে? এ প্রশ্নের উত্তর কি আমাদের কারও কাছে আছে?

তাহলে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কি ঘরে বসে থাকা? আমরা কি আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় অফিস সব বাদ দিয়ে দানবরূপী বাস-ট্রাকগুলোর নিচে চাপা পড়ার ভয়ে ঘরে বসে থাকব? রাজধানীর সড়কগুলোর চিত্র দেখলে তো তা-ই মনে হয়। আজ আমি নিরাপদ সড়কের দাবিতে একটি অভিমত লিখছি জাতীয় দৈনিকে ছাপা হওয়ার আশায়। কিন্তু কাল হয়তো আমারই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছাপা হবে পত্রিকাগুলোর প্রথম পৃষ্ঠায়।

সায়মা মাহবুব মীম
শিক্ষার্থী, অষ্টম শ্রেণি

টিকাটুলী কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়

ঢাকা।

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন