বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সকাল পর্যন্ত স্বজনেরা তাঁকে খুঁজে না পেয়ে লৌহজং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। কিন্তু তাঁদের জিডি না নিয়ে লৌহজং থানা থেকে বলা হয়, ওই ব্যবসায়ী শেষ যোগাযোগের সময় জাজিরা প্রান্তে ছিলেন। সেটা লৌহজং থানার আওতায় না বিধায় জাজিরা থানায় জিডি করতে হবে। এরপর ব্যবসায়ীর স্বজনেরা জাজিরা থানায় জিডি করতে গেলে তাঁদের বলা হয়, এই জিডি জাজিরা থানায় হবে না। নিখোঁজ হওয়ার আগে যেখান থেকে রওনা দিয়েছেন অর্থাৎ কেরানীগঞ্জ থানায় জিডি করতে হবে।

এরপর স্বজনেরা কোনো উপায় না দেখে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান জাজিরা থানার ওসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে, ওসি তাঁকে একই কথা বলেন। এরপর স্বজনেরা এবার রওনা দেন কেরানীগঞ্জ থানায়। তবে পথিমধ্যে তাঁরা খোঁজ পান নিখোঁজ ওয়াদুদুর রহমানকে বরিশালে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আমি নিশ্চিত, যদি নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান না মিলত, তাঁর স্বজনেরা যদি কেরানীগঞ্জ থানায় জিডি করতে গিয়েও হয়তো একই বিড়ম্বনায় পড়তেন। কেরানীগঞ্জ থানা থেকেও হয়তো টালবাহানা করে তাঁদেরকে বিদায় করা হতো।

আমার কথা হচ্ছে, একজন নাগরিক নিখোঁজ হলে তাঁর সন্ধান পেতে কিংবা খুঁজে পেতে থানা-পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাইতে গিয়ে এমন হয়রানির শিকার কেন হতে হবে। তাঁরা নিখোঁজ স্বজনকে খুঁজবে, নাকি থানায় থানায় ঘুরবে?

আমি মনে করি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে একজন নাগরিকের অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়। পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বের অবহেলাও বলা যায়। আসলে সদিচ্ছা থাকলে কোনো কাজই ঝামেলার মনে হয় না। সাধারণ ডায়েরির ক্ষেত্রে নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করুন।

মো. পলাশ খান
সমাজকর্মী ও সাংবাদিক

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন