যে শিক্ষকেরা শিশুদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখান, সেই শিক্ষকদের জীবনমান নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। একজন শিক্ষক যদি সামাজিক ও আর্থিকভাবে উন্নত জীবন যাপন করতে না পারেন, তবে তিনি কীভাবে শিশুদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখাবেন!

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আমার আর্থিকভাবে সামাজিক মর্যাদা সমুন্নত রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগযোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্যতার ভিত্তিতে দশম গ্রেডে বেতন দেওয়া হোক।

কাজি আবু নাসের
সহকারী শিক্ষক
বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

২.
শিক্ষা যদি হয় একটি জাতির মেরুদণ্ড, তাহলে শিক্ষকেরা হলেন সে মেরুদণ্ডের কারিগর। বলা হয়ে থাকে, প্রাথমিকের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এটি বেশি সত্য। জ্ঞানবিজ্ঞানে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ জাতি যাঁদের হাতে তৈরি হচ্ছে ও হবে, সেই প্রাথমিক শিক্ষকেরা রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়ে পড়ে রয়েছেন। লজ্জার বিষয়, অষ্টম শ্রেণি পাস গাড়ির চালকদের নিচের গ্রেডে রাখা হয়েছে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গাড়ির চালকদের নিয়োগযোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির, তাঁদের বেতন–ভাতা দেওয়া হচ্ছে ১২তম গ্রেডে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরের পিয়ন ও মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটারের নিয়োগযোগ্যতা এসএসসি বা এইচএসসি পাস, তাঁদের বেতন–ভাতা দশম গ্রেডে। কী এক অজানা কারণে শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের স্পষ্ট বৈষম্যের জাঁতাকলে পিষ্ট করা হচ্ছে।

আমরা প্রাথমিকের গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকেরা আজ ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েট যোগ্যতা নিয়ে সুশিক্ষিত জাতি গঠনের কাজ করে আজও আমরা চরম অবহেলিত। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন, একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক কীভাবে অফিসের পিয়ন ও গাড়ির চালকের নিচের গ্রেডে বেতন–ভাতা পান, একজন শিক্ষকের মর্যাদা কেন এত নিচের স্তরে, এ লজ্জা কি শুধুই একজন শিক্ষকের, রাষ্ট্রের নয় কি?

মো. জামিল বাসার
সহকারী শিক্ষক, বওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন