বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমরা শুধু বিশ্বব্যাপী মহামারি পরিস্থিতির শিকার হইনি, বরং সরকারের নিয়মকানুন এবং আমাদের প্রতি সরকারের উদাসীন মনোভাবেরও শিকার হয়েছি। অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের কাছে বারবার এবং বিভিন্ন উপায়ে আবেদন করেছেন, কিন্তু এগুলো সব বৃথা প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে।

ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, কেনিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের বন্ধুদের কাছ থেকে প্রতিদিন আমরা খবর শুনতে থাকি কীভাবে সরকার তাদের সাহায্য করছে এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমার ভারতীয় বন্ধুরা তাদের লাইসেন্সিং পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করছে, এমনকি তাদের জন্য পাস করার নম্বর কমানোর চেষ্টা পর্যন্ত করা হচ্ছে। নেপালে তাদের ইন্টার্নশিপ করতে দিচ্ছে। কেনিয়ার এক বন্ধু জানাল, ওখানে তাঁরা ক্লিনিক্যাল প্লেসমেন্টে অংশ নিতে পারছে।

মনে হচ্ছে, অন্য সবাই তাদের জাতির সেবা করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবু সরকার প্রতিনিয়ত আমাদের অগ্রাহ্য করছে। আমরা তো নিজের দেশের মানুষকেই সাহায্য করতে চাই, আরও শিখতে চাই। কিন্তু সরকার আমাদের এতটুকু সুযোগ দিতে প্রস্তুত নয়। আমি বিনা মূল্যে কোভিড সেক্টরে কাজগুলো করতেও রাজি। পরীক্ষা দিয়ে আমার যোগ্যতা প্রমাণ করার সুযোগ দিলেও আমি প্রস্তুত। তবে এই দুই বছরে আমার সিনিয়ররা কিছু করতে পারেননি। ঘরে বসে থেকে আমিও সব আশা হারিয়ে ফেলছি। এ কারণে আমার পারিবারিক পরিবেশের অবস্থাও ভালো নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গত বছরের ২৩ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার ৯০১ জন মানুষের জন্য আমাদের চিকিৎসক আছেন একজন, যেখানে এ অনুপাত হওয়া উচিত ১: ১০০০। এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিচে থেকে আমাদের দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছে।

অতএব এটি সত্যিই ভাগ্যের একটি বিড়ম্বনা। কারণ, যেখানে এ রকম একটা মহামারি পরিস্থিতিতে মেডিকেলের ছাত্র ও চিকিৎসকদের অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে সরকারি আনুষ্ঠানিকতার শিকার হয়ে আমরা বাড়িতে বসে‌ রয়েছি।

আমরা দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাহায্য করতে চাই, নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাই। প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর উচ্চ হার দেখে আমরা আরও বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। কারণ, এই রোগীদের সাহায্য করার জন্য আমাদের জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও সেগুলো কোনো কাজে লাগাতে পারছি না।

আমাদের দাবি, সরকার আমাদের হয় প্রি-ইন্টার্নশিপ করার ব্যবস্থা করে দিক অথবা আমাদের প্রভিশনাল সার্টিফিকেট দিয়ে লাইসেন্স পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে আমাদের বাধিত করবে। আমাদের ভবিষ্যৎ ও দেশের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে সাহায্য করুন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
চীনে অধ্যয়নরত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একজন

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন