বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর আকাঙ্ক্ষা থেকেই যায় ভালো একটা বিষয় নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে লোকপ্রশাসন অন্যতম। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম সারির বিষয় হওয়ায় একজন শিক্ষার্থীকে এই বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে হলে ভালো সিরিয়ালেও থাকতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন জেগে ওঠে বিসিএস ক্যাডার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। এই আকর্ষণীয় সরকারি চাকরিটির আশায় দিন গুনে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। বিসিএস ক্যাডার হওয়া মানে সোনার হরিণ পাওয়া। তাই এই লোভনীয় সরকারি চাকরি পেতে নির্দিষ্ট বয়সসীমা অবধি নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রাণপণ চেষ্টা চালায়।

যে কোনো বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাসকৃত শিক্ষার্থী বিসিএসে অংশ নিতে পারে। বর্তমানে ১৪টি সাধারণ ও ১২টি টেকনিক্যালসহ মোট ২৬টির মতো ক্যাডার রয়েছে। পিএসসি’র তথ্যমতে, ৪০তম বিসিএসে আবেদন করেছিলেন ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী। টেকনিক্যাল ক্যাডারে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ আরও কতগুলো বিষয় আছে সেসকল শিক্ষার্থী ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারে না। ফলে টেকনিক্যাল ক্যাডার থেকে বঞ্চিত লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা।

গত ৩৮ তম বিসিএসে চূড়ান্তভাবে ২ হাজার ১২৯ প্রার্থীর নামে গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়,পররাষ্ট্র ক্যাডারের জন্য ২৫ জন চূড়ান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জনই ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার। ১৩ জন ইঞ্জিনিয়ার তার মধ্যে ১০ জনই বুয়েটের আর ৭ জন ডাক্তার। ৪০ তম বিসিএসে পররাষ্ট্র, পুলিশ, প্রশাসন,কাস্টমস, খাদ্য, কর ক্যাডারে যারা ১ম হয়েছেন প্রত্যেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রশ্ন হচ্ছে -বিসিএসের এই পররাষ্ট্র ক্যাডারে ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ারদের যেতে হয় তাহলে তারা এত বছর প্রকৌশলী বা প্রযুক্তি ও মেডিকেলে কেন পড়েছেন? এসব ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়াররা দেশের রত্ন ও আমাদের সম্পদ। আমরা চাই তাঁরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করুক, দেশের জন্য সম্মান নিয়ে আসুক, সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরুক। প্রকৌশলী কিংবা চিকিৎসকেরা যদি পররাষ্ট্র, পুলিশ বা প্রশাসন ক্যাডার হতে পারে তাহলে লোকপ্রশাসন বিষয় কেন পড়ানো হয়? লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, কূটনীতি, প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারদের কাজ প্রত্যক্ষভাবে দর্শনের সুযোগ থাকে কেননা বিভিন্ন সেমিস্টারে শিক্ষকেরা অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে এসব কাজ দিয়ে থাকে। কিন্তু চরম সত্য যে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের কাছে প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়ে তাদের পড়াশোনার যথাযথ মূল্যায়ন করার সুযোগ পায় না।

৩৮ তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারের ১৩২০ জন প্রকৌশলী শিক্ষার্থী সাধারণ বিষয়ের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে কিংবা টপকে জায়গা করে নিয়েছেন। আপনারা যেখানে হাত দেবেন সেখানেই সোনা ফলার সম্ভাবনা আছে। আপনারা যদি পররাষ্ট্র বা প্রশাসনে যান তাহলে মাইক্রোসফট, গুগল, ফেসবুক, আমাজন, আলিবাবা এসব প্রতিষ্ঠানে কারা যাবে?

সম্প্রতি পিএসসির মতে, ৪০তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের সংখ্যা ৭৩৭ জন। যখন আরবি, সংস্কৃত ইত্যাদি থেকে শিক্ষা ক্যাডার দেওয়া হয় দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলতে হয় লোকপ্রশাসনের মতো একটা বিষয়ে শিক্ষা ক্যাডার নাই। লোকপ্রশাসন যখন পড়ানো হয় শুধু প্রশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সেমিস্টারে সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতিসহ অনেক কোর্স পড়ার সুযোগ থাকে। গত ৪১ তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশিত হলে লোকপ্রশাসনের শিক্ষার্থীরা অনেক দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। অনেকেরই শিক্ষা ক্যাডার পছন্দের তালিকায় থাকলেও নিয়মের শিকল থেকে বাইরে যেতে পারে না।

দেশের প্রায় ১৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন পড়ানো হয়। শিক্ষা ক্যাডার না থাকায় বিসিএসের অধিকাংশ আসন থেকে তাঁরা বঞ্চিত। এমতাবস্থায়, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত করে ক্যাডার দেওয়া যায় তাহলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবে। আমি কোনো বিষয়কে ছোট করে দেখছি না। লোকপ্রশাসন এমন একটি বিষয় যার নামে বাংলাদেশে একটি মন্ত্রণালয় আছে। সেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসিতে খবর আসে কোন ক্যাডারের জন্য কতগুলো সিট খালি আছে। বিসিএসের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ, মূল্যবান, লোভনীয় সরকারি চাকরিতে লোকপ্রশাসন অত্যন্ত উপেক্ষিত ও অবহেলিত। নেই শিক্ষা ক্যাডার নেই কোন বিশেষ ক্যাডার। আমি পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সবিনয়ে বলতে চাই, লোকপ্রশাসন বিভাগকে শিক্ষা ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত করা হক নতুবা অ্যাডমিন ক্যাডার দেওয়া হোক।

মো. মমিনুর রহমান
শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন