বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৯৬২ সালে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার গ্রেপ্তার করে। অন্তর্ঘাতসহ নানা অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৭ বছর কুখ্যাত রবেন দ্বীপের কারাগারে বন্দী থাকতে হয় ম্যান্ডেলাকে। ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্ত হন ম্যান্ডেলা। কারাগার থেকে বের হয়ে নিজ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেন। ম্যান্ডেলা এমন এক দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন দেখেন, যেখানে সব জাতি, সব বর্ণের মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে একসঙ্গে থাকতে পারবে।

নতুন দক্ষিণ আফ্রিকা গড়ার কাজটা সহজ ছিল না। কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা অতীতের তিক্ততার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে তাঁর সাবেক কৃষ্ণাঙ্গ নিপীড়কদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন। শুরু হলো এক নতুন দক্ষিণ আফ্রিকার পথচলা। যার একপর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের অবসান ঘটে।

১৯৪৪ সালের নির্বাচনে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। ১৯৪৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর আগে ১৯৯৩ সালে এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্কের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান তিনি।
তাঁর অসমসাহস, দক্ষ নেতৃত্ব ও নিঃস্বার্থ নীতির জন্য সারা বিশ্বের মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শান্তির সপক্ষে কাজ করা এবং আফ্রিকার নবজাগরণে ভূমিকা রাখার জন্য গত চার দশকে তিনি ২৫০টির বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে মর্যাদাপূর্ণ কংগ্রেশনাল স্বর্ণপদক এই মহান নেতাকে দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

পরিশেষে, নীতির প্রতি চির অবিচল সফল ও কষ্টসহিষ্ণু নেতা, কোনো প্রকার লোভ-প্রবঞ্চনার কাছে মাথা নত না করা এমন মানুষের জন্মদিনকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জাতিসংঘকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই দিনে ম্যান্ডেলাকে স্মরণ করছি।

সাবিনা আক্তার
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন