পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রশাসন তথা সামগ্রিক পরিচালনা পর্ষদ যদি সৎ, বিবেকবান, দায়িত্বশীল ও প্রয়োজনে কঠোর হয়ে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মানসিকতার অধিকারী হয়, তবেই ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে সুশিক্ষা অর্জন করে দেশের জন্য সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবেন। নিশ্চিত করবেন তাঁদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও জাতীয় ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারা।
কিন্তু কতিপয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থান্বেষী অসৎ, বিবেকহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন দুর্বল সুবিধাভোগী প্রশাসন বা পরিচালনা পর্ষদ নানা অজুহাতে মাসের পর মাস ক্যাম্পাস বন্ধ রেখে আয়েশি জীবনযাপনে মত্ত। সামান্য কিছু হলেই যেন অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ করার রীতি চালু হয়েছে। ঝুলে যাচ্ছে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন।
‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া’র ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডারে সাপ্তাহিক ছুটিসহ শিক্ষার্থীদের ছুটি ১৫৪ দিন। বছরে এমন দীর্ঘ পাঁচ মাসের অধিককাল ছুটি পৃথিবীর আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আছে বলে আমার জানা নেই।
তার ওপর বোনাস হিসেবে এ ক্যাম্পাসের প্রশাসন প্রায় প্রতি মাসেই নানা অজুহাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেয়। আর ১২ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীকে ঠেলে দিচ্ছে সীমাহীন অনিশ্চয়তা ও স্বপ্নভঙ্গের দ্বারপ্রান্তে। এসব প্রশাসনিক ধৃষ্টতা ও দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা ৮-১০ বছরে এখানে শিক্ষাজীবন শেষ করছেন। আর তত দিনে তাঁদের সরকারি চাকরির বয়সই প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।
তাই অবিলম্বে এই প্রশাসনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে নৈমিত্তিক ছুটি কমিয়ে রাজনীতিমুক্তভাবে প্রয়োজনে সন্ধ্যাকালীন ক্লাসের ব্যবস্থা করে অবিলম্বে সেশনজট কমানো এবং ছোটখাটো রাজনৈতিক ব্যাপারগুলো কঠোরভাবে প্রতিহত করে ক্যাম্পাস সচল রাখার আবেদন জানাচ্ছি।
শাহেদ সিদ্দিকী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন
চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন