default-image

বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক সংকটের জন্য কারা দায়ী, তা ভাবার সময় এসেছে। শুধু ভাবনা নয়, সময় এসেছে সংকটের মূলোৎপাটনের। অপার সম্ভাবনার এই দেশে আজ আমরা দ্বিধাবিভক্ত। কতিপয় মানুষ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে নেমে পড়ায় সংকটে পড়েছে দেশ। হুমকির মুখে স্বাধীনতার স্বপ্ন। আজকের এই পরিস্থিতির জন্য রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ ও লেজুড়বৃত্তি করা গণমাধ্যম সমানভাবে দায়ী।
বিষয়টির সঙ্গে হয়তো অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবেন। গণতন্ত্রের নামে আমাদের দেশে এখন চলছে পরিবারতন্ত্র। একে রাজনৈতিক স্বৈরতন্ত্রও বলা যায়। ক্ষমতার মোহে আজ রাজনীতিবিদেরা অন্ধ। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে হবে অথবা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে হবে। কেননা, ক্ষমতা মানেই গাড়ি-বাড়ি কোটি টাকার কারবার।
অন্যদিকে রয়েছে সুশীল সমাজ। আমরা আশা করেছিলাম, এই খেয়োখেয়ির রাজনীতিতে তারা আশার আলো দেখাবে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের দেশের সুশীল সমাজ আজ দ্বিধাবিভক্ত। দু-একজন ছাড়া অধিকাংশই একেকটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অইনজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী পর্যন্ত দলবাজিতে ব্যস্ত। সবাই যেন বিবেক-প্রতিবন্ধী হয়ে গেছেন। গণমাধ্যমে তাঁদের অনেকের বক্তব্য শুনে মনে হয়, তাঁরা রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র। জাতি হিসেবে আমরা সত্যিই দুর্ভাগা। আবার যে গণমাধ্যম সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরবে, ভালোকে ভালো আর মন্দকে ঘৃণা করার জন্য জনমত গড়ে তুলবে, আজ সেই গণমাধ্যমের বেশির ভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা বা ব্যবসায়ী শ্রেণির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

কোনো কোনো গণমাধ্যমকে একেকটি রাজনৈতিক দলের মুখপত্র বলে মনে হয়। তারা আর সমাজের প্রতিবিম্ব নয়। আমরা তাহলে কার দিকে তাকাব।
ইমন রহমান, নাগরিক।

বিজ্ঞাপন
চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন