বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ নানা শ্রেণির, নানা গোত্রের ও বর্ণের মানুষের বসবাস। এ নিয়েই আমাদের বৃহত্তম সমাজ। এ সমাজে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরনের বৈঠক, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ‘সামাজিক সভা’র মতো কোনো কিছুর সঙ্গে আমরা পরিচিত নই বললেই চলে।
এ ক্ষেত্রে সামাজিক সভা ধারণাটি বর্তমান সমাজ-বাস্তবতায় একপ্রকার নতুন, তবে অপরিহার্য। সামাজিক সভা বা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময় সমাজ গঠন ও বিকাশের পূর্বশর্ত। কেননা, একটি সমাজে নানা ধর্মের, বর্ণের ও গোত্রের মানুষের বসবাস হওয়ায় কেউ দুর্বল, কেউ সবল, কেউ অত্যাচারী, কেউ মজলুম। আবার কেউ কথিত সম্মানী, কেউ ঘৃণিত ও অবহেলিত।
মানুষের স্বভাবজাত স্বার্থপর বৈশিষ্ট্য, স্বাতন্ত্র্য, শ্রেণি-পেশা ও ধর্ম-বর্ণের এসব পার্থক্য মানবসমাজে প্রতিনিয়ত বিভিন্নমুখী বিভাজন, বিচ্ছিন্নতা ও সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি করে। আমরা না পারি সমাজ অস্বীকার করতে, না পারি স্বাভাবিক গতিতে একে ধরে রাখতে ও বিকশিত করতে।
মানুষের অসীম চাহিদা পূরণের জন্য সম্মিলিতভাবে অনুসন্ধান করতে হবে। কারণ, এটা কারও একার সমস্যা নয়। আমাদের আজকের মতবাদগত, ধর্মীয়, বুদ্ধিগত যত সমস্যা ও মতবিরোধ আছে, তার সমাধান সম্মিলিতভাবে তালাশ করতে হবে।
জাকির মাহদিন
সমাজ গবেষক।

বিজ্ঞাপন
চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন