তবে পাকিস্তান সরকার পরিচালিত পত্রিকাটির রাতারাতি নাম বদল থামাতে আমি কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধা নিয়ে একদিন দৈনিক পাকিস্তানে হাজির হলাম। পত্রিকাটির এমন ভূমিকার জন্যে তার সম্পাদক শামসুর রাহমানের প্রতি আমাদের বিরূপ মনোভাব কাজ করছিল। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু তার সামনে বসা ছিলেন। আমি তাকে চিনতাম না। দু’জনকে ধমকের স্বরে বললাম যে, এই নামে কোনো পত্রিকা আপনারা বের করতে পারবেন না। বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে তাঁরা আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। ব্যাপারটি নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো বিতর্ক হয়নি কিন্তু পরদিন থেকেই দৈনিক বাংলাদেশ তথা দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা’য় রূপান্তরিত হলো।

বিষয়টি আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। বহুদিন পর নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এই ঘটনাটি বর্ণনা করলে লজ্জায় আমি নীল হয়ে গিয়েছিলাম। কেননা একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের জন্য ঘটনাটি অনভিপ্রেত ছিল, যদিও রক্ত গরম যোদ্ধার কাছে তা অনাকাঙ্খিত ছিল না। আমার আরও খারাপ লেগেছিল যখন জানলাম যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় শামসুর রাহমান বেনামে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কবিতা লিখে সেসব কোলকাতায় নিভৃতে পাঠাতেন। আর সেগুলো জয় বাংলা ছাড়াও কোলকাতা ভিত্তিক অন্যান্য পত্রিকায় ছাপা হতো। এগুলোও ছিল যোদ্ধাদের জন্য প্রেরণার উৎস।

ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষক ও বর্তমানে উপচার্য, ওয়ার্ল্ড ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ

প্রতিক্রিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন