বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দাবি আদায়ের যে প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি, এতে ভীত হয়ে অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর আক্রমণের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের মনে একটা বিশ্বাস জন্মেছে যে এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে, এ দেশের জনগণ চায় না আর একবারও এই অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকুক, এভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করুক। এটা প্রমাণিত হয়েছে যে খালেদা জিয়ার মুক্তি এই দেশের মানুষ এ মুহূর্তেই চায়, তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক, সেটা চায়। এ দাবিকে পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে তাদের যে নীলনকশা, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ জন্য অতীতের মতো নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম, খুন, গণধর্ষণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে, তারা রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দাবি আদায় করবে, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে, তাঁকে বিদেশে পাঠাতে সক্ষম হবে। আওয়ামী লীগ বেসিক্যালি একটি সন্ত্রাসী দল। দলটির জন্ম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সন্ত্রাস ছাড়া টিকে থাকতে পারেনি।’

খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার দাবিতে সব মহানগরে গণ–অনশন ও সমাবেশ এবং ৩২টি জেলায় সমাবেশ করেছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ কর্মসূচিতে জনগণের যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, এটাতে উদ্বিগ্ন হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিটি কর্মসূচিতে বাধা প্রদানের চেষ্টা করছে, বাধা প্রদান করছে। প্রথম থেকেই তারা বিভিন্ন পদ্ধতিতে বাধা দিচ্ছে। কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সরাসরি আক্রমণ, কখনো নেতা-কর্মীদের দিয়ে আক্রমণ করে আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করেছে। হবিগঞ্জে ছাত্রদলের কয়েকজনের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে আছে। প্রায় দুই হাজার নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালীতে সমাবেশে হামলা হয়েছে, প্রায় ৩৫ জন আহত হয়েছে। নওগাঁয় সভাই করতে দেওয়া হয়নি। যেখানে যেখানে স্থান ঠিক করা হয়েছিল, প্রায় প্রতিটি জায়গায় আওয়ামী লীগও সভা ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ফেনী ও যশোরে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই সভা করেছে বিএনপি। ঠাকুরগাঁওয়েও মঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে কর্মী–সমর্থকদের সমাবেশস্থলে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহে পথে পথে বাধা দেওয়া হয়েছে। সবশেষ সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারীরা অসংখ্য মানুষকে হতাহত করে সমাবেশকে পণ্ড করতে চেয়েছে। কিন্তু যারা দেশকে ভালোবাসে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার দাবিতে এই সমাবেশকে তারা সফল করেছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়ে ১৭৩ দিন হরতাল পালন করেছিল আওয়ামী লীগ। তখন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সামনে তারা গানপাউডার দিয়ে বাস পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ১১ জনকে হত্যা করেছিল তারা। এটা নতুন কোনো ব্যাপার নয়। সেই পাকিস্তান আমলে অ্যাসেম্বলির মধ্যে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে পিটিয়ে হত্যা করার মধ্য দিয়ে শুরু। তারপর সবকিছুর মধ্যে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের বিএনপির সমাবেশে হামলার ঘটনা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিদেশবিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন