পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) প্রতিষ্ঠাতা এম এন লারমার ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) প্রতিষ্ঠাতা এম এন লারমার ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারাছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

আজীবন অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা)। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানকে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল দেখতে চেয়েছিলেন। একটি উদার ও অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠায় তিনি আদর্শ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির উইমেন ভলান্টারি অ্যাসোসিয়েশনে (ডব্লিউভিএ) এ সভার আয়োজন করা হয়। এর আয়োজন করে এম এন লারমার মৃত্যুবার্ষিকী পালনে গঠিত জাতীয় কমিটি।

পিসিজেএসএস পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এম এন লারমা। তিনি সাংসদও ছিলেন। তাঁরই কিছু বিশ্বাসঘাতক সহকর্মী ১৯৮৩ সালে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে হত্যা করেন।

স্মরণসভায় ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, অসাম্প্রদায়িক সমাজের আকাঙ্ক্ষা এখনো রয়ে গেছে। এই সমাজ প্রতিষ্ঠায় এম এন লারমার আদর্শ সবার পাথেয়। তিনি আজীবন ন্যায্য অধিকার, পাহাড়িদের অস্তিত্ব রক্ষায় আন্দোলন-লড়াই করেছেন।

সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, এ দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত। তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। আর তাদের নিয়ে যে রাজনৈতিক সমস্যা, তারও সমাধান দরকার।

বিজ্ঞাপন

রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানকে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল দেখতে চেয়ে এম এন লারমা সংসদে বিতর্ক করেছেন।

এম এন লারমাকে জুম্ম জাতীয় জাগরণের অগ্রদূত উল্লেখ করে পিসিজেএসএসের সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, পার্বত্যবাসী এখনো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের ভূমি বেদখল হচ্ছে। সম্প্রতি বান্দরবানে ম্রোদের জায়গাজমি বেদখল করে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের ঘটনাই এর প্রমাণ। এর বাইরেও পাহাড়ে প্রতিনিয়ত মানবাধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে। শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন না করে বিপরীতে এই দাবিতে আন্দোলনকারীদের দমন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

স্মরণসভার সভাপতি মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক আবু সাঈদ খান বলেন, প্রতিটি জাতিসত্তার স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। স্বীকৃতির প্রশ্নে টালবাহানা নয়।

default-image

প্রত্যেকের অধিকার দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এম এন লারমা সমৃদ্ধি, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ক্ষণজন্মা নেতা এম এন লারমা থাকলে আরও অবদান রাখতে পারতেন।

কারণ, তিনি শুধু নিজ জাতির জন্য নয়, গণমানুষের অধিকার, শিক্ষা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন।

আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, এম এন লারমা বেঁচে থাকলে আদিবাসী মানুষ ও বাংলাদেশ উপকৃত হতো। পাহাড়ের মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখে মেহনতি মানুষের অধিকারের জন্য তিনি জীবন দিয়েছেন। চুক্তি বাস্তবায়ন না করে পাহাড়ের মানুষকে ধোঁকা না দিতে সরকারের কাছে তিনি অনুরোধ করেন।

স্মরণসভার শুরুতে এম এন লারমার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। নেতাকে নিয়ে রচিত গানে সূচনা সংগীত পরিবেশন করে আদিবাসী গানের দল মাদল।

মৃত্যুবার্ষিকীর শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন জাতীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জান্নাত-ই-ফেরদৌসী।

স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন। সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস। আলোচনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য রুহিন হোসেন, বেসরকারি সংগঠন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুশতাক আহমেদ ও অসিত বরণ রায়।

প্রথম পর্বের আলোচনা শেষে বিকেলে প্রদীপ প্রজ্বালন ও গণসংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠান হয়। এতে মাদল, আদিবাসী নারী ব্যান্ড দল এফ মাইনর, গানের দল সমগীত ও আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং গান পরিবেশন করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0