default-image

সরকারবিরোধী কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। তাদের শরিক জোট ও বাম জোটের নেতারাও বলেছেন রাজপথে নেমে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে জেএসডির কাউন্সিলে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা এসব আহ্বান জানান।

ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, যে ঐক্য হয়েছে, তা স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। যে দাবি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, তা ভোগ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আইয়ুব খানও উন্নয়ন উন্নয়ন করতেন, কিন্তু তাঁর পতনও আমরা দেখেছি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের আরও বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করতে হবে। শুধু ঐক্যফ্রন্ট নয়, অন্য জোটগুলো নয়, আমাদের সমস্ত দেশের মানুষকে এক করে, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলোকে এক করে আজকে লড়াই করতে হবে এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হই, তাহলে কোনো স্বৈরশাসনই, কোনো একনায়কই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।’

সরকারবিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘এই শক্তিকে সরাতে হলে সর্বদলীয় ঐক্য জোট গড়ে তুলতে হবে। আমরা সবাই এই সরকারের বিরোধী। আমাদের মত ও পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ও আদর্শ এক।’

বাম গণতান্ত্রিক জোটের দুই নেতা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রাজপথে নেমে ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান।

জেএসডির কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, দেশে যে ধরনের শাসনব্যবস্থা চলছে, সেটা সংবিধানের কথামতো চলছে না। শহীদেরা জীবন দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন। স্বাধীনতার ফসল কেউ কেউ ভোগ করতে দিচ্ছে না। দেশে গণতন্ত্র কার্যকরভাবেও কেউ ভোগ করছে না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কামাল হোসেন বলেন, ‘আপনারা নির্বাচন দেন। প্রথমে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন করতে হবে সৎ এবং সুস্থ।’

সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে কথা বলার সমালোচনা করে কামাল হোসেন বলেন, ‘আইয়ুব খানও উন্নয়ন উন্নয়ন করতেন। তাঁর পতনও আমরা দেখেছি। উন্নয়নের কথা বলে যে পতন হয়, তার সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ছিল আইয়ুব খানের ব্যাপারে। তাঁরা সব সময় জোর দাবি করতেন উন্নয়নের। উন্নয়নের কথা মুখে বলা হয়। কিন্তু তথ্যগুলো দেখেন। এত ঋণের বোঝা বাড়ছে কেন? করের টাকায় সরকার রাষ্ট্র চালাতে পারছে না। ঋণ করে চালাতে হচ্ছে।’

শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই ঐক্যফ্রন্ট নেতা বলেন, দলীয়করণের কারণে শিক্ষার মান উন্নত হচ্ছে না। দলীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে।


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে এখন গভীর রাজনৈতিক সংকট চলছে। জনগণের অভ্যুত্থান ও আন্দোলন ছাড়া এ সংকট সমাধানের কোনো উপায় নেই।


ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, অন্য দেশের আইন এ দেশকে যদি আক্রান্ত করে, তাহলে সেটা নিয়ে বলার অধিকার অবশ্যই এ দেশের মানুষের আছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভারতের আইন পাসের সময়ে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টানা হলেও সরকার এ বিষয়ে কোনো রকমের গুরুত্ব দিচ্ছে না। রোহিঙ্গা ও ভারত থেকে পুশ ব্যাকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে দুর্যোগের ভূখণ্ডে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।

default-image

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকট নিরসনে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। জনগণের ভাগ্যবদলের জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান। 

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, আগামীকাল রোববার তাঁরা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন। সেখানে বাধা দেওয়া হলে তাঁরা মানবেন না। তিনি বলেন, মানুষ রাজপথে নামলে এ সরকার ভয় পায়। তাই সবাইকে পথে নামতে হবে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সমালোচনা করে বলেন, চেতনার নামে ধান্দা হচ্ছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সবাইকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনুমতি নিয়ে আন্দোলন হয় না।


কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আ স ম রবকে মূল্যায়ন করা হয়নি।


সংসদ থেকে ঐক্যফ্রন্টের সাংসদদের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে আসা কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এই সংসদ যদি অবৈধ হয়, তাহলে ঐক্যফ্রন্টের যে আটজন সংসদে গিয়েছেন, তাঁরাও অবৈধ। ৩০ তারিখের আগেই তাঁরা পদত্যাগ করুন, মানুষ আপনাদের পেছনে এসে দাঁড়াবে। দ্বিচারিতার রাজনীতিতে কোনো কথা নয়।’

গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কর্মসূচি ও রাজপথের আন্দোলন ছাড়া সরকারকে টলানো যাবে না। এ পর্যন্ত যত কার্যকর ঐক্য হয়েছে তা রাজপথে, টেবিলে নয়। রাজপথে নতুন ঐক্য তৈরি হবে।


জেএসডির কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার, বিকল্পধারার নুরুল আমীন ব্যাপারী, জেএসডির তানিয়া রব, মো. সিরাজ মিয়া প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0