বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ গোটা নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, তিন তিনটা নির্বাচন তারা ধ্বংস করল। গোটা নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে শরীয়তপুরের এমপি বলেছেন, ‘আমি ঠিক করব, চেয়ারম্যান কে হবে, মেম্বার কে হবে।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলাম, সেই গণতন্ত্রকে একেবারে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে। তারা এখন একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। তাঁদের নেতা–পাতিনেতাদের দৌরাত্ম্যে কেউ মাঠে থাকতে পারবেন না।’

আওয়ামী লীগ ভিন্ন মত সহ্য করতে পারে না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারা সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। সহনশীলতা বলতে তাদের কিছু নেই।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে। এর প্রতিবাদে সম্প্রতি দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি সভা করেছিলাম আমরা। সভা শেষে ছেলেরা যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন পেছন থেকে তাদের ওপর আক্রমণ করে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এমনকি নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়েছে তারা। এত ভয় কেন? কারণ, তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। জনগণ যেদিন বের হবে রাজপথে, সেদিন পালাবার পথ খুঁজে পাবে না।’

পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চরম দুর্নীতিপরায়ণ, চরম নির্যাতনকারী, রাষ্ট্রবিরোধী একটা দলের জন্য আপনারা এভাবে জনগণের ওপর নির্যাতন করবেন না। এই সরকার রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের পকেট কেটে আওয়ামী লীগ সরকার নিজের পকেট ভরছে। হাজার হাজার মানুষ গরিব থেকে গরিব হচ্ছে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা–কর্মী ও তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আপনাদের আহ্বান জানাব, এখন সংগঠিত হন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল–মতসহ সবাইকে এক করে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার যেন প্রতিষ্ঠা করতে পারি। আমরা অবশ্যই নির্বাচন চাই। তবে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তবেই নির্বাচনে যাব, অন্যথায় নয়।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। সাধারণ মানুষ এখন ভালো খেতে পারে না। খায় কারা? আওয়ামী লীগের লোকেরা। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। এখানে সিন্ডিকেট আছে। তারা তাদের মতো করে দাম বাড়ায়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা, পাতিনেতা যাঁরা আছেন, তাঁরা টোল নেন, চাঁদা নেন। পথে পথে যে সবজি ট্রাকে করে উত্তরবঙ্গ থেকে বা পূর্ববঙ্গ থেকে আসছে, তা থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এখন এমন একটা অবস্থা হয়েছে, দেশের মানুষের শ্বাস আটকে গেছে।’

মানববন্ধন অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করছেন। বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। সেই বিশৃঙ্খলা বিএনপির ঘাড়ে চাপানোর জন্য মামলা দেওয়া হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। জনগণের অন্যদিকে ধাবিত করা যাবে না। এবার জনগণই ফয়সালা করবে, কারা ক্ষমতায় আসবে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মানববন্ধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া। মানববন্ধন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ, সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী।

তৈমুর আলমের লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

মানববন্ধন অনুষ্ঠানের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকারের লেখা ‘জাতিসত্তার অন্তরালে বিষাক্ত নিশ্বাস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে একটি অস্বাভাবিক বিকৃত অবস্থা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে একটি পঙ্গু ও বিকলাঙ্গ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। দেশের সব অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের পার্লামেন্টকে শেষ করে দিয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে পুরোপুরিভাবে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রিত করে দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে। এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন