ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন
ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেনছবি: প্রথম আলো

প্রচার–প্রচারণা আর গণসংযোগে ব্যাপক জনসমাগম ও জনসমর্থন দেখে আওয়ামী লীগ ভয় পেয়েছে। ভয়ের কারণেই তারা অতীতের মতো বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যে মামলা দিচ্ছে। গণসংযোগে বাধা দিচ্ছে, হামলা চালাচ্ছে।

আজ বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এসব কথা বলেছেন। উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে নিজ বাসায় তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। গত ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৮ আসনটি শূন্য হয়।
বিজ্ঞাপন

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘উৎসবমুখর নির্বাচন চাই। কিন্তু গণসংযোগে নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পুলিশের অনুমতি নিয়ে গণসংযোগ গেলেও গণসংযোগ করা যায়নি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর আপন ভাইসহ প্রত্যেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা প্রচারকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।’

এসবের পরও জনগণের ওপর ভরসা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সেই ক্ষমতা রয়েছে। এটা ২০১৪ ও সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে প্রমাণিত।’

এ ছাড়া পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণে ভোটাররা শঙ্কিত বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই প্রার্থী।

লোকজন এনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে মন্তব্য করে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তারা নিজেরা সন্ত্রাসী, তাদের বাহিনীও আছে। সন্ত্রাসের দ্বারাই তারা অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যে ভোটাধিকার আওয়ামী লীগ ছিনিয়ে নিয়েছে, সেটা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা-১৮ আসন থেকেই ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের উত্থান হবে।

সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, নিজেরা একটি নির্বাচনী কার্যালয় পুড়িয়ে ২৩৫ জন নেতা–কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ঢাকা-১৮–এর আওতাধীন সব কটি থানা-ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মী সবাইকে আসামি করা হয়েছে। এখন পুলিশ বাসায় গিয়ে লাঞ্ছিত করছে, এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে।
ভোটাররা কেন্দ্রে না যাক, এটাই আওয়ামী লীগ চায় জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী যেখানেই গণসংযোগে গেছেন, সেখানেই বাধা দেওয়া হয়েছে। তাদের সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা আর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এসব বিষয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সাংবিধানিক পদে আছেন। যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, সংবিধান রক্ষা করতে না পারেন, দায়িত্ব ছেড়ে দিন। নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে না পারেন, তাহলে বন্ধ করে দিন।’

আমান উল্লাহ জনগণের কাছে অনুরোধ করে বলেন, ‘আপনারা সাহস নিয়ে, নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাবেন। নিজেদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বাধীনভাবে ভোট দেবেন। আপনাদের ভোটে ভবিষ্যতে গণতন্ত্র যাতে পুনরুদ্ধার হয়, জনগণের ভোটে যাতে সাংসদ নির্বাচিত হয়। বিএনপির নেতা–কর্মীরা আপনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন।’

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিএনপির উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডিএনসিসি-১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এস আই টুটুল, উত্তরখান থানা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ব্যাপারী, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সবুজ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন, বিএনপির নেতা মোস্তফা কামাল, উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম প্রমুখ।

গত ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৮ আসনটি শূন্য হয়। আসনটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ এই আসনের উপনির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসান, বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, জাতীয় পার্টির নাসির উদ্দিন সরকার, গণফ্রন্টের প্রার্থী গাজী মো. শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী ওমর ফারুক ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির প্রার্থী মহিবুউল্লাহ বাহার।

মন্তব্য পড়ুন 0