বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ২৮ জুলাই রাতে তেগাছিয়া বাজার থেকে সাফাখালী গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে হামলার শিকার হন রাকিবুল। হামলাকারীরা তাঁকে প্রথমে মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁকে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তাঁর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

হামলার ঘটনার পরদিনই রাকিবুলের মা রাহিমা বেগম কলাপাড়া থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এতে মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলামকে প্রধান ও তরিকুলের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম ওরফে রায়হান পাহলানকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তরিকুলকে বহিষ্কার করেছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি নোমান হাওলাদার, খলিল হাওলাদার, নয়ন বয়াতী ও রুবেল সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে।

গতকাল সকালে রাকিবুলের মরদেহ কলাপাড়ায় পৌঁছায়। এরপর কলাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব তালুকদার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম রাকিবুল আহসান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তেগাছিয়া বাজারের জামে মসজিদ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কথা বলেন রাকিবুলের বাবা নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্টের কথা হইলো নিজ দলের কর্মীদের হাতে আমার ছেলে খুন হইছে। আমার আর কিছু বলার নেই। আমি ছেলের হত্যার যথাযথ বিচার চাই।’

জানাজা শেষে রাকিবুলের মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর মা রাহিমা বেগম, বোন নাসরিন বেগমসহ আত্মীয়স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুপুর সাড়ে ১২টায় সাফাখালী জামে মসজিদ মাঠে সর্বশেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব তালুকদার বলেন, এক বছর আগে রাকিবুল ও রায়হানের মধ্যে এক ঘটনায় রায়হান জখম হয়। এরপর যতবারই ওই এলাকায় দলীয় কোনো কর্মসূচিতে গেছেন, দুই পক্ষকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখেছেন। এ রকম একটি ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁরা মনে করেননি। রাকিবুলের বাবা আশঙ্কার কথা অন্য নেতাদের জানাতে পারেন, তবে তাঁকে বলেননি।

কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশাদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন