বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীরা নির্বাচন–পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। বিধিমালায় সাংসদদের সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা আছে, যে কারণে তাঁরা স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের প্রচার বা নির্বাচনী কাজে অংশ নিতে পারেন না। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের শাস্তি ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এখন চলছে প্রচার। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাংসদ শামীম ওসমানের সঙ্গে আইভীর দ্বন্দ্ব পুরোনো। ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমান আইভীর কাছে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার আইভীর প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমুর আলম। তাঁকে শামীম ওসমান সমর্থন দিচ্ছেন বলে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা রয়েছে। গত শনিবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভী অভিযোগ করেন, তৈমুর ‘গডফাদার’ শামীম ওসমানের প্রার্থী। এই অবস্থায় আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন শামীম ওসমান।

সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান বললেন, ‘নৌকার জন্য যেভাবে নামা উচিত আমার, সেভাবে নামতে পারিনি। তবে আজকে থেকে ইনশা আল্লাহ সেভাবে নামলাম।’ তাঁর এই ঘোষণাই নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ ছাড়া শামীম ওসমান দলীয় নেতা–কর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কে প্রার্থী, হু কেয়ার? কলাগাছ না আমগাছ, সেটা দেখার বিষয় না। আমাদের দেখার বিষয় একটাই, এইটা আমার স্বাধীনতার নৌকা, এইটা আমার জাতির পিতার নৌকা, এইটা আমার শেখ হাসিনার নৌকা, এইটা আমার বঙ্গবন্ধু পরিবারের নৌকা, এইটা আমাদের রক্ত দিয়ে গড়া নৌকা…। এই নৌকার বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।’ শামীম ওসমান এই নির্বাচনে আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমুর আলমের প্রতীক ‘হাতি’ নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, ‘হাতির বড়জোর সাইজ বড় হতে পারে, হাতির সাইজ বড় হইলে আমরা কান্ধে নিয়ে দৌড় দিব ইনশা আল্লাহ। কিন্তু নৌকার ওপর উঠতে দিব না।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শামীম ওসমানের এসব বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে দলীয় প্রতীকে। সেখানে দলীয় মন্ত্রী–সাংসদদের প্রচারে অংশ নিতে না দেওয়ার বিধি অযৌক্তিক। এটি পরিবর্তন করা দরকার। এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হতো না। তখন এই বিধি যৌক্তিক ছিল। কিন্তু এখন যে বিধি আছে, সেটা সবাইকে মানতে হবে। সাংসদ শামীম ওসমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের উচিত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন