বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গ্রেপ্তারের কথা আসছে কেন? যখন আদালত বলবেন “গ্রেপ্তার করুন”, তখন আমরা গ্রেপ্তার করব। এখন তো প্রশ্ন আসছে না।’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ​ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। আজ রোববার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির কক্ষে এ সাক্ষাৎ​ হয়।
সাক্ষাৎ​ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ। আসার পরে উনি (প্রধান বিচারপতি) যে দুই-একটা কথা বলেছেন, তা এই সুপ্রিম কোর্টের কিছু নিরাপত্তা বৃদ্ধির ব্যাপারে। সেটা আমরা দেখব।’
এখন যে জ্বালাও-পোড়াও সন্ত্রাস হচ্ছে তা রোধে নতুন আইনের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন নেই। আপনারা জানেন, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন কার্যকর আছে।’ সেই আইনটা কি প্রয়োগ করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই হবে। যেকোনো মূল্যে সন্ত্রাস দমন করা হবে।’
‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমিন্ত্রী বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধ শুধুই আমাদের বাংলাদেশে হয় নাকি? সারা পৃথিবীতে হচ্ছে। যেখানেই সন্ত্রাস হচ্ছে, আপনারা দেখছেন, ফ্রান্সে চারজন মেরে ফেলেছে। আমেরিকায় হাত না তুললেই গুলি করে মেরে ফেলে। কাজেই যেখানে সন্ত্রাস দমনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, পুলিশ যেখানে অ্যাকশনে যায়, সন্ত্রাসীকে ধরতে যায়, সেখানেই বন্দুকযুদ্ধ হয়। বন্দুকযুদ্ধ হলে একটা কিছু হয়, সেটা তো আপনারা জানেন।’

জ্বালাও-পোড়াও ঘটনার বিচার বর্তমান আইনে সম্ভব: খায়রুল হক
এর আগে আজ বেলা তিনটার দিকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, দুই সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর ও শাহ আলম প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ​ করেন। সাড়ে তিনটার দিকে আসেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বিকেল চারটার দিকে বেরিয়ে আসেন আইন কমিশনের সদস্যরা। এর কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ​ শেষে বেরিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন। এই মামলাজট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া বিচার বিভাগে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। সেসব সমস্যা ​কিভাবে দূর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। পরস্পরের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি আমাদের নিশ্চিত করেছেন। আমাদের কারাবিধি ও বিভিন্ন আইনের আরও উন্নতি কীভাবে করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নিয়ে আলাপ হয়নি। বিদ্যমান সন্ত্রাসবিরোধী আইন আছে সেটা পর্যাপ্ত ​কি না, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই মনে করি, বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ খুবই দরকার। আমাদের বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ হলেই দেখবেন অনেক সমস্যার সমাধান।’
দেশে বর্তমানে জ্বালাও-পোড়াও হচ্ছে, এসব ঘটনার বিচার বর্তমান আইন দিয়ে করা করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এ বি এম খায়রুল হক বলেন, খুবই সম্ভব এবং করা উচিত। সন্ত্রাস দমনে নতুন আইন করার প্রয়োজন আছে কি না, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন আইন করা অনেক দুরূহ। নতুন আইন করা হলে সে আইনের প্রয়োগ কিভাবে হবে তা অজানা থাকে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন