বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সব নেতাই নির্বাচন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু এ কয় দিনে দেখলাম, আপনি প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ভাবমূর্তির কথা বলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। রহস্যটা কী?

তৈমুর আলম: রহস্যটা হলো এই, দেশের আমলাতান্ত্রিক কালচার। এই কালচারে সবকিছুর মূলে হলো প্রমোশন, লোভনীয় পোস্টিং। প্রধানমন্ত্রী সর্বময় ক্ষমতার মালিক; তিনি যা চাইবেন, যা মনোভাব প্রকাশ করবেন, আমলারা সেটাই করবেন।

আমি মনে করি, নারায়ণগঞ্জ আন্দোলনের একটা সূতিকাগার। সেই নারায়ণগঞ্জকে তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের সুযোগটা দেবেন। আরেকটা কথা হলো, তাঁর দল (আওয়ামী লীগ) নারায়ণগঞ্জে দ্বিধাবিভক্ত; এটা পরিষ্কার। আমার সঙ্গে কিন্তু সবাই আছে আমার দলের। এটাও তো প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন যে তাঁর দলটা কেন নারায়ণগঞ্জে দ্বিধাবিভক্ত।

কথাটি আপনি নিজেই যেহেতু তুলেছেন, আপনিও বিভক্ত একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জে কিন্তু জনশ্রুতি আছে, আপনি শামীম ওসমানের প্রার্থী। আইভীও তা-ই বলেছেন, আসলে কী।

তৈমুর আলম: আমি বারবার, বহুবার বলেছি এবং নারায়ণগঞ্জবাসীও জানে, শামীম ওসমানের পা দিয়ে হাঁটার সুযোগ আমার বিগত জীবনেও ছিল না, বর্তমানেও নেই। শামীম ওসমান যখন ছাত্র, তখন আমি নারায়ণগঞ্জে অনেক বড় নেতা। অবশ্য আমি যেসব মানুষের নেতৃত্ব দিয়েছি, এগুলোর বড় পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই। যেমন ছিন্নমূল। এখনো আমি রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, ঠেলাগাড়ি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, হোটেল শ্রমিক ও হকারদের সংগঠন করি। আমি যখন নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকসাইটের নেতৃত্ব দিই, তখন সে (শামীম ওসমান) একটা ছাত্রনেতা। তাকে জিজ্ঞেস করে, তার ঘাড়ে পাড়া দিয়ে আমাকে চলতে হবে না। এটা নারায়ণগঞ্জবাসী জানে।

তাহলে জিনিসটা কোত্থেকে এল?

তৈমুর আলম: আরে ভাই, এটা তাদের একটা অপপ্রচার। এই শামীম ওসমানের অফিসে বোমা মাইরা ২২ জনকে হত্যা করা হয়েছিল (২০০১ সালে)। সে মামলার আমি প্রধান আসামি। তারা তখন বলেছে, খালেদা জিয়ার ও গোলাম আযমের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তৈমুর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে বোমা হামলা করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হয়। ওই ধরনের একটি নিন্দনীয়, পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে আমাকে প্রধান আসামি করা হয়। আমার শরীরে গুলি আছে সরকারের।

default-image

আইভী তো আপনার ভাতিজি, উনি এ অভিযোগ কেন করলেন?

তৈমুর আলম: উনি কেন বললেন, সেটা আমি জানি না। তাঁর দলের এমপিকে তিনি যখন গডফাদার বলেন, তখন তো স্বাভাবিকভাবেই তারা কি তাঁর পক্ষে যাবে? ওনার দলের লোকদের উনি দূরে সরিয়ে রেখেছেন, এটা তো তাঁর কথাতেই বোঝা যায়। এটা কিন্তু আমি বলি না, তাঁর দল নিয়ে তো আমি মাথা ঘামাই না।

আরও কথা আছে, নারায়ণগঞ্জে আমার চেম্বার, বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে। কত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আমি নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করি। আমি কি গণবিচ্ছিন্ন লোক? গত ৫০ বছরে আমার কোনো গণবিরোধী ভূমিকা পাবেন না। জনগণের স্বার্থ আত্মসাৎ করেছি, তাদের সঙ্গে বেইমানি করেছি, তাদের ছাইড়া চলে গেছি, কোনো আন্দোলন থেকে পিছপা হয়েছি—এমন নজির নাই।

কখনো কি ভেবেছিলেন, দল আপনাকে পদছাড়া করবে?

তৈমুর আলম: এটা তো দল আমার উপকার করেছে। আমার সঙ্গে আলাপ করেই করেছে। নৌকার যারা ডাইহার্টেড, তারা তো ধানের শীষে ভোট দেবে না। এখন তো তাদের আমার মার্কায় (হাতি) ভোট দেওয়ার একটা সুযোগ হইছে। আমার দল তো আমাকে ভোট দেবেই, চারদিক থেকে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটও আসবে।

কিন্তু বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের অনেকেই তো আপনার সঙ্গে মাঠে নেই।

তৈমুর আলম: প্রভাবশালী বলতে কারে বোঝান? আমার চেয়ে প্রভাবশালী লোকটা নারায়ণগঞ্জে কে? তৈমুর আলম খন্দকারের চেয়ে মাঠে বিএনপির প্রভাবশালী লোকটা কে, নামটা বলেন তো।

ধরুন জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতা, সাবেক সাংসদেরা আছেন।

তৈমুর আলম: জেলা পর্যায়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক (মনিরুল ইসলাম), তাঁকে তো ধরে ফেলেছে। সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে দুদকের মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে। তিনি নিজের ছেলের জন্য ভোট চাইতে পারছেন না। তাঁর বউয়ের জানাজায়ও আসতে পারেননি। সে কী করবে, বলেন? তবু তিনি তো আমার ওয়ার্ক করতাছেন। সাবেক সাংসদ কালাম সাহেবের পায়ের যে সমস্যা, তিনি ঘর থেকে বের হতে পারেন না। তিনি তাঁর ছেলের নির্বাচনও করতে যাননি। তাঁর লোকজন তো সব আমার পক্ষে নামছে।

আইভী তো বারবার লড়াই করে জিতেছেন, জনসমর্থনও কুড়িয়েছেন। আপনাকে কেন মেয়র করবে?

তৈমুর আলম: বারবার জিতে নাই। জিতে নাই এই জন্য যে আগে জনগণের কাঙ্ক্ষিত কোনো প্রার্থী ছিল না। এবার জনগণের কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী আছে এবং তার ফলাফল ভোটে দেখবেন।

নারায়ণগঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ায় বিভক্ত। এটা যত না আওয়ামী লীগের, তার চেয়ে বেশি সন্ত্রাস বনাম প্রতিবাদের। সেখানে আপনার অবস্থান কোথায়?

তৈমুর আলম: নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রথম মুখ খুলেছি আমি। আমার ভাই (২০০৩ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত শাব্বির আলম খন্দকার) সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে খুন হয়েছেন। আমি, আমার পরিবার নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসের শিকার বেশি। আমার পরিবারের এমন কোনো সদস্য নেই, যারা মামলার আসামি না। আমার দুইটা মেয়ে ব্যারিস্টার, যদি মেয়ে না হয়ে ছেলে হতো, তারাও আসামি হতো।

আপনার ভাষায় ২০১১ সালে দল আপনাকে ‘কোরবানি’ দিয়েছে। পরের বার দল আপনাকে প্রার্থী করেনি, এবার দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হলেন কেন?

তৈমুর আলম: না না, ২০১৬ সালে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি যাইনি, আমি নির্বাচন করি নাই।

এবার যদি হেরে যান, কী করবেন?

তৈমুর আলম: হারব না, ইনশা আল্লাহ। হারার কোনো স্কোপই নেই।

আইভী তো আপনার ভাতিজি। যদি হেরে যান, সম্পর্কটা কেমন হবে।

তৈমুর আলম: এটা আমাদের শহর। এখানে আমাদের জন্ম। ১৬ তারিখের পরে কেউ কারও ব্যাপারটা মনে রাখুক, এটা আমি চাই না। সবাই নারায়ণগঞ্জবাসী হিসেবে থাকবে, এটাই আমি চাই।

আপনাকে মানুষ কেন ভোট দেবে।

তৈমুর আলম: গত ৫০ বছরে আমার কর্ম এবং ১৮ বছরে আইভীর ব্যর্থতা।

সুনির্দিষ্ট করে বলবেন? কোন জায়গায় ব্যর্থ?

তৈমুর আলম: সব জায়গায়। হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করেছে, ট্রেড লাইন্সের ফি বৃদ্ধি করেছে। পানির বিল বৃদ্ধি করেছে, কিন্তু সেবা দিতে পারেনি।

সে জায়গায় আপনি কী করবেন?

তৈমুর আলম: আমি তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এ সমস্যাগুলো নিরসন করব। তিন বছর আগে রসুলপুর ব্রিজের নির্মাণ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এখন পর্যন্ত করতে পারেনি আইভী।

কিন্তু তিনি অনেক উন্নয়নকাজও তো করেছেন।

তৈমুর আলম: যে উন্নয়ন করেছেন, এটাকে উন্নয়ন বলে না। মানুষের মৌলিক চাহিদার উন্নয়ন হলো প্রকৃত উন্নয়ন। আমি ২২ তলা একটা বিল্ডিং করলাম, এটা উন্নয়ন নয়। ডেভেলপমেন্ট শুট বি দ্য মেটার অব দ্য হিউম্যান বিয়িং। সাধারণ ছিন্নমূল মানুষের রাজনীতি করি আমি, তাদের উন্নয়ন হলো আমাদের কাছে উন্নয়ন।

তাহলে কি এই ছিন্নমূলই আপনার ভোট ব্যাংক?

তৈমুর আলম: ছিন্নমূল, হোল্ডিং ট্যাক্সওয়ালারা। তারা তো অবশ্যই আমাকে ভোট দেবে। তাদের আহ্বানেই তো আমাকে নির্বাচন করতে হচ্ছে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন