default-image

গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া বলেছেন, কোনো পদের প্রতি তাঁর কোনো লোভ নেই। তাঁর কারণে দলে কোনো তর্ক হোক, তা তিনি চান না। তিনি বলেছেন, দলের ভেতরের বিরোধের কারণে তিনি গণফোরাম ছেড়েছেন।
আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেজা কিবরিয়া এসব কথা বলেন।

গতকাল রেজা কিবরিয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে গণফোরাম ছাড়ার কথা জানান। ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি গণফোরামে যোগ দেন এবং ২০১৯ সালের মে মাসে দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। দল ছাড়ার বিষয় নিয়ে তিনি আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘দলের কোনো পদের প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। আমি চাচ্ছিলাম না আমার কারণে দলের মধ্যে কোনো তর্ক হোক। দল ভালো করবে, তা আমি সব সময় চাই। কোনো পদ–পদবি নিয়ে দলে অসন্তোষ থাকবে, আমি এটা চাই না। তাঁরা ২৫ বছর কাজ করেছেন, দলকে অনেক ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছেন, আমি দেড় বছরে হয়তো সেটা পারিনি। ওনারা হয়তো সামনে আরও অনেক কিছু করবেন। আমি দলের ভালো চাই। আমার মনে হয়, এখন একটা জাতীয় ঐক্য তৈরি করা প্রয়োজন।’
গণফোরামের কয়েকজন নেতার দলের জন্য, দেশের জন্য যে আকাঙ্ক্ষা, তাঁর সঙ্গে রেজা কিবরিয়ার আকাঙ্ক্ষার কোনো মিল নেই বলেও জানান। দল ও পদ ছাড়ার বিষয়ে তিনি গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেই নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কামাল হোসেনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আগের মতোই আছে।

বিজ্ঞাপন

রেজা কিবরিয়া বলেন, গণফোরামের অন্তর্দ্বন্দ্ব একাদশ জাতীয় সংসদে দলীয় নেতা মোকাব্বির খানের যোগ দেওয়া নিয়ে শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘মোকাব্বির খানের সংসদে যাওয়া নিয়ে দলে দুটি ভাগ হয়ে যায়। মোকাব্বির খান নির্বাচিত হয়েছেন এবং দলের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। কিন্তু ওনার সম্পর্কে যে কথাগুলো বলা হয়েছে, বহিষ্কার করা হবে এবং যে আচরণ করা হয়েছে, তা আমার পছন্দ হয়নি।’

মোকাব্বির খানের সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার জন্য গণফোরামের দুজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁরা দায়িত্ব পালন করেননি বলে জানান রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, এরপর মোকাব্বির খানকে সংসদে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়। তখন থেকেই ঝামেলা শুরু হয়। এই রাগে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু গণফোরামের কাউন্সিলে অংশ নেননি। তখন রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানান।

রেজা কিবরিয়া বলেন, এ দেশে কোনো কিছু নিয়ে বিরোধিতা করার সুযোগ খুব কম। সেখান থেকে দলের একজন প্রথমবারের মতো সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে সেই সুযোগ নিতে হবে। মোকাব্বির খানের সংসদে যোগ দেওয়াকে সমর্থন করেছিলেন বলে জানান তিনি।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হওয়া এবং ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কাজ করতে পারাকে জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেন রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, কামাল হোসেন কী মাপের মানুষ, তা আন্দাজ করার ক্ষমতা তাঁর দলের অনেকের নেই। এই দলের আরও অনেক দূর যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। দলের লোকজনও কামাল হোসেনকে যে মূল্যায়ন করার কথা, তা করেনি।

বিএনপি বা অন্য কোনো দলে যোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি কী করব। পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তা দেখব।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে যাবেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে রেজা কিবরিয়া বলেন, তাঁর বাবা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়া। বাবা আওয়ামী লীগে ছিলেন বলে সেখানে তিনিও যাবেন এমন কোনো কথা নেই। এখন আওয়ামী লীগের অনেক পরিবর্তন। তাদের যে মনোভাব, তা আগে ছিল না। তারা এখন নিশ্চিন্তে মিথ্যা বলে। তারা মানুষকে তোয়াক্কা করে না। আগে আওয়ামী লীগের জন্য এবং তাঁর বাবার জন্য জনমত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন তা নেই। এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, দেশেই থাকবেন। কী করবেন, তা এখনো ঠিক করেননি। রাজনীতির সঙ্গে থাকবেন বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন