দেশের ১৭টি জেলার ১৭ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত এই ধাপে ৪২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুব মহিলা তিন মাসের প্রশিক্ষণসহ দুই বছরমেয়াদি অস্থায়ী কর্মসংস্থান লাভ করবেন। এসব সুবিধাভোগীর জন্য সরকারের মোট খরচ হবে ৬৬১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এই কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দুই বছরমেয়াদি অস্থায়ী কর্মসংস্থান দেওয়ার লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলার ১৯টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে (২০১১-১২) রংপুর বিভাগের বাকি সাতটি জেলার আটটি উপজেলায় এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যা চলমান রয়েছে। সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত ১০টি জেলার ২৭ উপজেলায় অস্থায়ী কর্মসংস্থান পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫২১ জন।

গতকাল সম্প্রসারিত ১৭টি জেলার ১৭ উপজেলা হচ্ছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহের নান্দাইল, পিরোজপুরের কাউখালী, চাঁদপুরের হাইমচর, শেরপুর সদর, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাগুরার মহম্মদপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, বাগেরহাটের চিতলমারী, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বান্দরবানের থানচি, নাটোরের সিংড়া, খুলনার তেরখাদা এবং কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১০ সালে যে দারিদ্র্য ম্যাপ তৈরি করেছে, তা অনুসরণ করে এই ১৭টি উপজেলা কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে।

বৈঠক সূত্র জানায়, কয়েকজন মন্ত্রী নিজের এলাকায় এই কর্মসূচি নেওয়ার দাবি তোলেন। তবে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়, পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে।

উল্লেখ্য, কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত যুব নারী ও পুরুষকে প্রশিক্ষণকালে মাথাপিছু দৈনিক ১০০ টাকা এবং দুই বছরের অস্থায়ী কর্মসংস্থানকালে মাসে ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়। ন্যূনতম এইচএসসি পাস এবং ২৪-৩৫ বছর বয়সী বেকার যুবকেরা ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হয়ে থাকেন।

ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়: ব্রিফিংয়েমন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। গতকালের বৈঠকে ওই বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা করেন।

সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণের প্রস্তাব এসেছে। তবে এ জন্য বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের অনুমতিসহ আনুষঙ্গিক কিছু কাজ করতে হবে।

মন্ত্রিসভার একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি কীভাবে ব্যতিক্রমধর্মী হবে, তা নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। কোনো কোনো মন্ত্রী এটিকে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকানুনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। আবার কয়েকজন মন্ত্রী এতে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ব্যতিক্রমধর্মী যদি করতেই হয়, কারও সঙ্গে তুলনা না করে নতুন আইনে এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন