বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজকে যদি সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে হয়, ইতিহাসের নায়কদের সম্মান দেখাতে হয়, তাহলে আজকের তরুণ–যুবকদের অসীম সাহসে ভর করে এই রাজপথ কাঁপিয়ে তুলতে হবে আবার। আরেকটি মুক্তিযুদ্ধে আমরা অংশগ্রহণ করতে চাই। এই সরকারকে টেনে নামাতে চাই। ন্যায়ভিত্তিক একটা শাসনব্যবস্থা আমরা কায়েম করতে চাই।’

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী দিনের এ লড়াইয়ে যারা টিকবে, তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অনুসারী। তারাই সম্মানের উপযুক্ত। আরা যারা দিনের ভোট রাতে করে, তাদের চিরতরে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হবে।

‘আ.লীগ স্বাধীনতা চায়নি’
বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ কথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ কোনো দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। তাজউদ্দীন আহমদ তো একটা টেপ রেকর্ডার নিয়ে গিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে যে ইতিমধ্যে আর্মি মুভমেন্ট শুরু করেছে, তারা বাঙালি নিধনে নেমেছে। এখনো সময় আছে আপনি স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মুজিব বলেছিলেন, না, আমি তাহলে বিচ্ছিন্নবাদী হিসেবে চিহ্নিত হব।’

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, ‘সেই এমনই এক জাতীয় ইতিহাসের মোড়ে দাঁড়িয়ে তারা স্বাধীনতা শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করার সাহস পাননি। পাকিস্তানি বাহিনী যে বর্বর ক্র্যাক ডাউন করেছে ২৫ মার্চ রাতে, ইতিহাসের এক নিকৃষ্ট গণহত্যার শিকার হয়েছি আমরা।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যাঁরা এত দিন মঞ্চে কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছেন, তাঁরা প্রাণপণে পাশের দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশবাসীর কথা মনে ছিল না। এমনই এক দুর্যোগ ক্ষণে দেশবাসী একজন বীরের সাক্ষাৎ পায়। কোটি কোটি মানুষের হয়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর নাম মেজর জিয়াউর রহমান। যাঁকে তারা অখ্যাত মেজর বলে।’

default-image

জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, আওয়ামী লীগের নেতাদের এই বক্তব্য নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ অংশ নেওয়া হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এর উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না, দেবও না। জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কি না, বাংলাদেশের মাটি তা সাক্ষ্য দেবে। মৃদুমন্দ বাতাসে যখন তরুলতা হিল্লোলিত হবে, তারা সাক্ষী দেবে জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের কথা।’

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বাস্তব সত্য যে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে যদি জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, যদি ইপিআর, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট চট্টগ্রাম, যশোর, জয়দেবপুর, সৈয়দপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা না করত, তাহলে এ দেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হতো না। আর মুক্তিযুদ্ধ না হলে বাংলাদেশও স্বাধীন হতো না। কারণ, বাঙালি জাতি তখন পাকিস্তানি সৈন্যদের বুটের নিচে পিষ্ট, মাথা তোলার শক্তি কারও ছিল না। বাঙালিদের সম্মান-মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট মাঠে নামে, যার নেতৃত্ব দেন মেজর জিয়াউর রহমান।’

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে সম্মুখযুদ্ধে যেভাবে নেতৃত্ব দেন, এ রকম ঘটনা যদি আওয়ামী লীগের থাকত, তাহলে তারা কত রকম কল্পকাহিনি রচনা করত। দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতায় তাদের তো কোনো অংশগ্রহণ দেখি না। আর যিনি সাহস করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁকে তারা অখ্যাত মেজর বলে পরিহাস করছে, নানা অভিযোগ করছে। তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে পরিবার-পরিজনসহ হত্যা করল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের ষড়যন্ত্রের কারণে। রাষ্ট্রপতি হলেন খন্দকার মোশতাক আহমদ, যিনি শেখ সাহেবের বাণিজ্যমন্ত্রী। এই খন্দকার মোশতাক ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর পাঁচ বছর বেঁচে ছিলেন। আওয়ামী লীগের কোনো নেতা গিয়ে একটা ঢিল পর্যন্ত তাঁর আগামসিহ লেনের বাড়িতে মারেনি।

তাদের সব টার্গেট শুধু বিএনপি, জিয়াউর রহমান। যিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সৎ রাষ্ট্রপতি এবং যিনি সুশাসনের জন্য ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন বাংলাদেশে।
‘প্রেসিডেন্ট নেই তো কী হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট আছে’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘১৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ছয়টায় সময় আমি এবং আমার কমান্ডিং অফিসার কর্নেল সাফায়েত জামিল সেনাবাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। সেনাবাহিনীর উপপ্রধানের আন্ডারে কোনো সোলজার ছিল না। তাঁর অধীনে একজন মেজর, একজন ক্যাপ্টেন আর তিনজন কেরানি ছিল। এ পাঁচজনকে নিয়ে তাঁর কমান্ড। সেনাবাহিনীতে তাঁর আর কোনো কাজ ছিল না, তাঁকে কোনো নিয়মিত কাজও দেওয়া হতো না ষড়যন্ত্রের কারণে। সেই জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়ে আমি এবং সাফায়েত জামিল যখন বললাম, প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড। জিয়াউর রহমান এমনই একজন উচ্চ মনের সৈনিক ছিলেন, তিনি এমন খবর শুনে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট নেই তো কী হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট আছে। আমরা সৈনিক, আমরা সংবিধানকে সমুন্নত রাখব। লেট আস আপহোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন। এবং তিনি আমাদের বলেছিলেন, গো অ্যান্ড গেট ইউর ট্রুপস রেডি। যে কথা সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ বলতে পারেননি। অথচ এ ধরনের একজন মহান সৈনিককে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে চায়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব, তিনি বিএনপির মতো একটি দল গঠন করেছেন। আর আমরা এমন একটি দলে আছি, যার নেতা সততার জন্য ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। জিয়াউর রহমানের চারজন ভাই ছিল যখন তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। আমরা কেউ তাদের নাম জানি না। স্বজনপ্রীতি তাঁকে কোনো দিন স্পর্শ করতে পারেনি, কিন্তু তাঁকে অসম্মান করছে...এই যে চোরের দল বিনা ভোটে ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। তারা কীভাবে ক্ষমতায় আছে, কীভাবে তারা কথা বলে, নির্লজ্জ একটি দল।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অব. জয়নুল আবেদীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, বিলকিস ইসলাম প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন