বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাদী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলিও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

কামাল উদ্দিন সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাতকানিয়ার ১৬টি ইউপিতে নির্বাচন হয়।

মামলার আরজিতে বলা হয়, স্থানীয় লোকজন ও নেতা-কর্মীদের অনুরোধে সোনাকানিয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কামাল উদ্দিন প্রচারণা শুরু করেন। একপর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন কবির আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কামাল উদ্দিন মনোনয়ন-বাণিজ্যে বিশ্বাসী না হলেও হোসেন কবির চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদের আস্থাভাজন হওয়ায় তাঁর আশ্বাসে রাজি হন। এ জন্য হোসেন কবিরকে প্রথমে ১৫ লাখ টাকা দেন। পরে সাংসদের নামে আরও ১৫ লাখ টাকার চেক দেন।

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নে কামাল উদ্দিনের নাম আসেনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁর নাম স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়নি। পরে তিনি টাকা ফেরত চেয়ে হোসেন কবিরের বাসায় যান। কিন্তু টাকা ফেরত দেননি তিনি। পরে কামাল উদ্দিন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হোসেন কবিরকে দেওয়া চেকের ছবিসহ স্ট্যাটাস দেন।

এদিকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদের নামে ১৫ লাখ টাকার চেক নেওয়ার অভিযোগ তোলায় গত ১০ জানুয়ারি কামালের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন হোসেন কবির। আদালত পিবিআইকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি এখনো তদন্তাধীন।

ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে কামাল উদ্দিন যে চেকের ছবি যুক্ত করেন, সেটি সোনালী ব্যাংক কোর্ট হিল শাখার চেক। তাতে পে টু-এর স্থানে লেখা মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। নিচের অংশে কামাল উদ্দিনের সই রয়েছে। তবে চেকে কোনো তারিখ ছিল না। স্ট্যাটাসে কামাল উদ্দিন লেখেন, ‘আমি আমার চেক ও টাকা ফেরত চাই। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে আমি তৃণমূলের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ ও ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হব।’

এ ব্যাপারে সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা ডাহা মিথ্যা, বানোয়াট। তাঁর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করা হবে। তিনি (কামাল উদ্দিন) প্রতারণা করছেন আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য।’

এদিকে কামাল উদ্দিন আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। এরপর টাকাগুলো ফেরত চেয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখনো টাকা ও চেক ফেরত না পাওয়ায় মামলা করেছি। এর আগে আইনগত নোটিশও দিয়েছি। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন