বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি শুধু সাংগঠনিক বিষয় এবং সমসমায়িক রাজনীতি। তবে বৈঠকের গতিবিধি ঠিক করে দেবে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার উদ্বোধনী বক্তব্যে। এর সূত্র ধরেই নেতারা আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যান। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও চিকিৎসা–সহায়তা ছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতা প্রায় বন্ধ ছিল। ফলে দলীয় প্রধান আজকের বৈঠকে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরুর বিষয়েই বেশি জোর দেবেন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি গঠিত হয়। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ৩২ জেলা ও মহানগর কমিটি হালনাগাদ আছে। আট বিভাগে দলটির ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৪৬টি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে। একইভাবে উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিরও বেশির ভাগ হালনাগাদ নয়। এ অবস্থায় কমিটি হালনাগাদ করাই দলটির সামনে অগ্রাধিকার বলে নেতারা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের আজকের বৈঠকে লিখিতভাবে নিজ নিজ বিভাগের সাংগঠনিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেখানে কমিটি হালনাগাদ না থাকার পাশাপাশি দলীয় কোন্দলের বিষয়টিও আসবে। দলীয় প্রধান উদ্বোধনী বক্তৃতায় কিংবা সাংগঠনিক প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয় তুললে অন্য নেতারাও এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নাটোরসহ কিছু জেলার দলীয় কোন্দলের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মারা যাওয়া পাঁচ নেতার পদ পূরণের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। এর মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর তিনটি এবং নির্বাহী সদস্যের পদ দুটি ফাঁকা হয়েছে। দলীয় প্রধান তাঁর বক্তৃতায় নিহত নেতাদের স্মরণ করবেন—এটাই স্বাভাবিক। এ সময় শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি আসাও অস্বাভাবিক নয়।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে জেলা পরিষদেরও মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। ফলে আগামী এক বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঠাসা সূচি থাকবে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হলে মাঠে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হিসেবে আওয়ামী লীগই দাঁড়িয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে একজনকে দলীয় মনোনয়ন দিলে অন্যরা বিদ্রোহী হবেন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হবে। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত–প্রাণহানি হয়। এবার এই সংঘাত এড়াতে কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে মত আছে দলের অনেক নেতার। ফলে আজকের বৈঠকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং এর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

আগামী বছর ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। করোনার কারণে দেড় বছর সাংগঠনিক কার্যক্রম হয়নি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে আগেভাগে জাতীয় সম্মেলন করে দলকে নির্বাচনের আগেই প্রস্তুত করে রাখার কথা বলছেন কোনো কোনো নেতা। তবে নেতারা বলছেন কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আগ বাড়িয়ে তাঁরা এসব বিষয়ে কথা বলবেন না। তবে দলীয় প্রধানের ইঙ্গিত পেলে বিষয়টি তুলবেন নেতারা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, দলের পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে দ্রুত ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জোর দেওয়া হবে। অন্তত ডিসেম্বরের মধ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলন করার পরিকল্পনা আছে। এরপর জেলার সম্মেলন হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখাই মূল লক্ষ্য। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয় বৈঠকে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সাংগঠনিক সব বিষয়েই আলোচনা হবে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতভেদসহ সবই আসবে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন