বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পথসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এদিন আইভীর পথসভাটি বড় জনসভায় রূপ নেয়। পরে তিনি একটি ছাদখোলা গাড়িতে করে নির্বাচনী মিছিলে অংশ নেন। এতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন। মিছিলটি চাষাঢ়া হয়ে ২ নম্বর রেলগেট–সংলগ্ন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘এই শহরের মাটি ও মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার বাবা আলী আহাম্মদ চুনকাও এই শহরের মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর আপনাদের কল্যাণে কাজ করেছি। শান্তির বার্তা নিয়ে আবারও আপনাদের দুয়ারে এসেছি।’

আইভী বলেন, ‘আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে, খুনের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। এই নৌকা বিজয়ের নৌকা, এই নৌকা একাত্তরের নৌকা, এই নৌকাকে রোধ করার ক্ষমতা কারও নেই। ১৬ জানুয়ারি (আগামীকাল) আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।’

নৌকার প্রার্থী সবার ভোট চেয়ে নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের জন্য মৃত্যুকেও বরণ করে নিতে রাজি আছি। আমি এই নারায়ণগঞ্জের জন্য, ত্বকীর জন্য, চঞ্চলের জন্য, বহু হত্যাকাণ্ডের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছি। ঘরসংসারের দিকে তাকাই নাই, এসেছি আপনাদের সেবা করতে, নিশ্চয়ই আমাকে আপনারা বিমুখ করবেন না।’

পথসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও আইভীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, ‘অশান্ত শহরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন আইভী। মনে রাখবেন, কেউ কেউ অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করবেন, আমরা প্রশাসনকে বলে এসেছি কোনো বিশৃঙ্খলা এই নারায়ণগঞ্জে হতে পারবে না।’

আইভীর সংবাদ সম্মেলন

সকালে শহরের দেওভোগে নিজের বাসভবন প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে আইভী বলেন, ‌‘এখানে কিন্তু আইভীকে পরাজিত করার জন্য অনেকগুলো পক্ষ এক হয়ে গেছে। সেই পক্ষটা ঘরের হতে পারে, বাইরেরও হতে পারে, সব মিলে গেছে। কিন্তু সবাই জানে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।’

নির্বাচন প্রভাবিত করার তৈমুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে আইভী বলেন, ‘তাঁরা (কেন্দ্র) কাউকে প্রভাবিত করছে না। নেতৃবৃন্দ আমার বিজয় নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন না। ওনারা হয়তো অন্য কারণে অবজারবেশনে আছেন। ভোটের মাঠে তাঁরা (কেন্দ্রীয় নেতারা) কখনো নেগেটিভ কিছু বলেননি। এখানে যাতে কেউ কোনো বিশৃঙ্খলা অথবা নিজ দলে যাতে সমস্যা তৈরি করতে না পারেন, সে কারণে খোঁজখবর রাখছেন।’ তিনি বলেন, তাঁর কোনো বহিরাগত নেই। বরং তৈমুরের বাড়ি রূপগঞ্জ থেকেই বহিরাগতরা আসে।

আইভী বলেন, ‘আমার কোনো বাহিনী নেই। সহিংসতা আমার পক্ষ থেকে হবে না। বিগত নির্বাচনগুলোতে কখনো সহিংসতা হয় নাই। তাই এবারও উৎসমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে।’

তৈমুরের জনসংযোগ

বিকেলে বন্দরে নির্বাচনী জনসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তৈমুর আলম অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কক্ষের সিসিটিভি বন্ধ রাখতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের কেন্দ্রপ্রধানদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, ভোট চুরিতে সুবিধার জন্যই এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে অপরাধ দমনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য বলা হয়, সেখানে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বন্ধের নির্দেশনার অর্থ কী দাঁড়ায়, সেটা না বোঝার কিছু নেই।’

এর আগে বন্দর সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব মাঠ থেকে প্রচারণা শুরু করেন তৈমুর। বন্দর বাজার হয়ে আলী আহাম্মদ চুনকা সড়ক ধরে মদনগঞ্জের পায়রা চত্বর এলাকায় গিয়ে প্রচার মিছিল শেষ হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়ানো লোকজন তৈমুরকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।

সকালে সংবাদ সম্মেলনে তৈমুর আলম খন্দকার অভিযোগ করেন, বহিরাগত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করে দিচ্ছেন, তাঁরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি গত বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি দলের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘তাঁর দলের নেতা–কর্মী ও সক্রিয় কর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ১৫ বছর যাবৎ বাড়িতে থাকতে পারি না। গ্রেপ্তার এড়িয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

তৈমুর অভিযোগ করেন, ‘নারায়ণগঞ্জের হোটেলগুলোতে খোঁজ নিলে আপনারা দেখতে পাবেন, বিভিন্ন জেলার সরকারি দলের লোকজনদের এনে রাখা হয়েছে। সার্কিট হাউস, ডাকবাংলোকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী সরকারি গাড়ি ও সরকারি ডাকবাংলো ব্যবহার করার আইনগত বিধান নেই। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন।’

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ শহরের চাষাঢ়ায় জমায়েত করে প্রচারণা চালান। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এ বি এম সিরাজুল মামুন শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন। কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস আল্লামা ইকবাল সড়কে শেষ প্রচারণা চালান।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন