বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধায় সহিংসতায় বিজয়ী ও পরাজিত দুই সদস্য প্রার্থী নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে চতুর্থ ধাপে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় গত ২৮ ডিসেম্বর নিহত হন হরিরামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী শাহারুল ইসলাম (৪৫)। একই ওয়ার্ডের বিজয়ী ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফিরোজ কবিরের সমর্থকদের হামলায় তিনি নিহত হন বলে অভিযোগ ছিল। নিহত শাহারুল ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

শাহারুলের ছেলে শিহাব মিয়া বাদী হয়ে ফিরোজ কবিরসহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন। শিহাব মিয়া বলছেন, ঘটনার ১৫ দিন পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইজার উদ্দিনের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

এদিকে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হন গাইবান্ধা সদর উপজেলার আবদুর রউফ (৫০) নামের বিজয়ী এক ইউপি সদস্য। তিনি লক্ষ্মীপুর স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ছিলেন। নির্বাচনের পরদিন গত ১২ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় আবদুর রউফকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের বড় বোন মমতাজ বেগম বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আরিফ মিয়াকে প্রধান ও অজ্ঞাতনামা ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়। ১৫ নভেম্বর মামলার প্রধান আসামি আরিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গাইবান্ধা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রউফ জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পাবনা সদর উপজেলায় ভাড়ারা ইউপিতে গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী সংঘর্ষ চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসিন আলম (৪২) গুলিতে নিহত হন। মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদ খানসহ বাকি ২৩ জন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে নির্বাচন কমিশন ওই ইউপির নির্বাচন বাতিল করে।

তবে আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান বলেছেন, ঘটনার দিন সুলতান মাহমুদের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি
গুলি ছুড়েছেন। তাঁদের গুলিতেই ইয়াসিন আলম মারা গেছেন।

নিহতের বাবা মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘আমি কিছুই বুঝিনে। আমার বেটাক (ছেলে) দিনির আলোত গুলি করে মারছে। আমি আমার বেটা খুনির বিচের চাই।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ৯ আসামির মধ্যে ৪ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। খুব শিগগির মামলাটির অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের পরদিন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পিটুনিতে নিহত হন নওপাড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত সদস্য প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুল মালেক মালত (৫৫)। কথা-কাটাকাটির জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজনের পিটুনিতে মারা যান তিনি। ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। কিন্তু এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত মালেক মালতের ছেলে ফাহিম হাসানের করা হত্যা মামলায় পরাজিত অপর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন মালত, তাঁর ছেলে সিহাব মালতসহ ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পরই আসামিরা এলাকা থেকে পালিয়েছেন। ফাহিম হাসান বলেন, ‘প্রকাশ্যে আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। তারপরও পুলিশ আসামিদের কেন গ্রেপ্তার করছে না?’

নড়িয়া থানার ওসি অবনী শংকর কর বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন।

যশোরের অভয়নগরে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য উত্তম সরকারকে (৩৮) গুলি করে হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ সুন্দলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য অর্ধেন্দু মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নির্বাচনে উত্তম সরকারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অর্ধেন্দু। চতুর্থ ধাপে গত ২৬ ডিসেম্বর সুন্দলী ইউপি নির্বাচনে অর্ধেন্দুকে ৬১ ভোটে পরাজিত করেছিলেন উত্তম। গত সোমবার রাতে উপজেলার হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে উত্তমকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নিহতের মা শেফালী সরকার কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘নির্বাচন জেতাই আমার ছেলের কাল হয়েছে।’

অভয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার মণ্ডল বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ দাহের পর এ ব্যাপারে মামলা হবে। এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন করা যায়নি।

প্রার্থীর লাশ উদ্ধার, অপমৃত্যু মামলা

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় ৫ জানুয়ারি ইউপি নির্বাচনের তিন দিন পর একটি মাছের খামার থেকে জহিরুল ইসলাম (৫৩) নামের এক সদস্য প্রার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জহিরুল ইসলাম উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেন বলেন, গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কে বা কারা তাঁর ভাইকে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে যান। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রোববার সকাল ছয়টার দিকে রাস্তার পাশে একটি মাছের খামারের পাশে তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

সোনাইমুড়ী থানার ওসি হারুন অর রশীদ বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদকপ্রতিনিধিরা]

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন