তিস্তা চুক্তির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের জনগণকে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে বললেন। এটি নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে তিনি জানান। 

আজ শুক্রবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মমতা। এ অনুষ্ঠানের নাম ছিল বৈঠকি বাংলা। এখানে মমতা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে একটি কবিতাও আবৃত্তি করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

default-image

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেকের মনে প্রশ্ন আছে তিস্তা নিয়ে। আমার ওপর আস্থা রাখুন। ভরসা রাখুন। আমাদের কিছু সমস্যা আছে। আপনাদেরও কিছু সমস্যা আছে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। আমি আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করব। আমি নিশ্চিত এ বিষয়ে আলোচনা করব। শুধু তিস্তা কেন গঙ্গা, পদ্মা, মেঘনা নিয়ে আমরা ভাগাভাগি হতে দেব না।’

এর আগের বার আসতে চেয়েও পারেননি উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এবারও অনেক বাধা ছিল। ব্যাগ গোছানোর আগ পর্যন্ত বুঝতে পারছিলাম না আসতে পারব কি না। চিন্তা ছিল। কিন্তু সব বাধা ভেঙে যেহেতু এসেছি, তখন সব বাধা ঘুচে যাবে। আজ থেকে এটা একটা নতুন সূত্রপাত। দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো জায়গায় চলে যাবে।’

আজকের বৈঠক প্রসঙ্গে মমতা বলেন, এ বৈঠকে খুব ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। টিভি চ্যানেল নিয়ে একটি দাবি আছে। আমাদের দিক থেকে কোনো অসুবিধা নেই। আমাদের (ভারত) এখানে চাইলে বাংলাদেশে চ্যানেলগুলো ব্যবসায়িকভাবে আসতে পারে।

মমতা আরও বলেন, কলকতার রাজারহাটে তিনি জমি দেবেন। তিনি চান সেখানে বাংলাদেশ সরকার সেখানে একটি ভবন করুক। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থাকবে। তিনি বলেন, দুই দেশের সিনেমা শিল্প নিয়ে অনেক জট রয়েছে। আমি সেগুলো খোলার চেষ্টা করছি।’ এই জট খুলেতে তিনি বাংলাদেশ থেকে তিনজন ও ভারত থেকে তিনজন নিয়ে একটি কমিটি করার প্রস্তাব দেন। কমিটির চেয়ারম্যান বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে করার প্রস্তাব দেন। তিনি (নূর) বাংলাদেশের তিনজন প্রতিনিধি ঠিক করবেন। আর পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিনি প্রতিনিধি হলেন চলচিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টপাধ্যায় ও শ্রীকান্ত মোহতা শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস-এর কর্ণধার শ্রী শ্রীকান্ত মোহতা।

default-image

তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশ চলচিত্র উৎসব করুক। বাংলাদেশে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব করুক। তিনি তাঁর লেখা ৫৩টি বইসহ বাংলাদেশ বইমেলা কর্তৃপক্ষকে মোট ৫০০টি বই উপহার দেবেন বলেও জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে বিমানবন্দরের নামকরণ ও একটি ফেলোশিপ চালু করবেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি চেয়ার করারও ঘোষণা দেন তিনি। আর এটি উদ্বোধন করতে তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাবেন।

মমতা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কাঠবিড়াল হয়ে সেতুবন্ধনের কাজ করে যাব। অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করা হয়েছে। অনেক কিছু ঘটানো হয়। অনেক কিছু ঘটে। আমরা লাইন বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। সরকার বিল আনছে। বড় কাজ হয়ে যাবে। আমরা সংস্কৃতি বিনিময় করছি। ব্যবসা সম্প্রসারণে যা যা করা দরকার তা করব আমরা।’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন