আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই ৪৩ বছর ধরে চলছে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা যুবলীগ। এর মধ্যে একবারও সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি। আর এ কারণে নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডে যেমন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, তেমনি দলীয় কার্যক্রমও চলছে কোনো রকমে।
দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৭২ সালে যুবলীগ প্রতিষ্ঠার পর যুবনেতা শাহজাহান আলীকে আহ্বায়ক করে উপজেলা যুবলীগের প্রথম ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এরপর একাধিকবার আহ্বায়ক কমিটির পরিবর্তন হয়। কিন্তু কোনো কমিটিই সম্মেলন করতে পারেনি। এতে বারবার শুধু আহ্বায়ক পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আবদুল কুদ্দুস (প্রেস), ২০০৩ সালে ইউসুফ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে জুলফিকার মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। বিধি অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি গঠনের তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৪২ বছরে একবারের জন্যও সম্মেলন করতে পারেনি কোনো কমিটি। ফলে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই কোনো রকমে চলছে যুবলীগের কার্যক্রম। এতে দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করে। এ কারণে যেকোনো দলীয় কর্মসূচিতে রাজপথে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও কম থাকে।
এ ব্যাপারে সাবেক আহ্বায়ক ইউসুফ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও ঊর্ধ্বতন নেতাদের অসহযোগিতার কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান আহ্বায়ক জুলফিকার মতিন বলেন, আমি সাত-আট মাস আগে দায়িত্ব পেয়েছি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবেশ স্বাভাবিক হলে স্থানীয় সাংসদ ও নেতাদের সহযোগিতায় সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল জলিল প্রামাণিক বলেন, ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও মহিলা লীগের সম্মেলন হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে এবার যুবলীগেরও সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন