default-image

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘দানব’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় নেতা-কর্মীদের গুম হওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই দানব বাংলার সব অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। জোর করে গুম মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এই অপরাধের জন্য আমি এই সরকারকে দায়ী করছি।’

আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সিঙ্গাপুর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের গুম, খুন ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা এখন নিদারুণ কষ্টে আছি। আমার মনে হয় না, কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে ইতিপূর্বে এত কষ্ট করতে হয়েছে।’

গুম হওয়া বিএনপির নেতাদের সন্ধানে সরকারের কাছে দেন-দরবার করে কোনো লাভ নেই—মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘নিখোঁজদের সন্ধান করতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছি। দেশে বলেছি, আন্তর্জাতিক ফোরামে বলেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এ কোন রাষ্ট্র? কোন গণতন্ত্র? যে রাষ্ট্র আমার ছেলেদের খোঁজ দিতে পারে না।’

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর প্রমাণিত হয়েছে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য, নির্বাচন পার করার জন্য সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করেছে। বিএনপির নেত্রী বলেছেন, ‘এর জন্য র‌্যাব দায়ী। কোথাও কোথাও ডিবি দায়ী। আমাদের ৩০০ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, ৬৫ জনকে গুম করা হয়েছে। এর জবাব শেখ হাসিনাকে দিতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের নানা বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির মুখপাত্র মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘প্রতিদিন তাঁদের দম্ভোক্তি শুনে মনে হয়, তাঁরা হলেন রাজা, বাকি সবাই প্রজা। তাঁরা জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে রুদ্ধ করে দিয়েছেন।’ তিনি নিখোঁজ হওয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘এই জঘন্য সরকারকে বিদায় করে তাদের খুঁজে বের করব। তা না পারলে এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিচার করব। এ জন্য এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, পরাজিত করতে হবে।’

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান রাজধানীর শাহজাহানপুরের পাইপে শিশু জিহাদকে জীবিত বাঁচাতে না পারায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই সরকার পাইপের ভেতর ক্যামেরা পাঠিয়ে টিকটিকি পায়। মানুষ পায় না। আর সাধারণ মানুষ পরে বাচ্চাটির লাশ উদ্ধার করে। তাই তাদের উচিত সাধারণ মানুষের হাতেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া।’

সিঙ্গাপুর বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শরিফুল আলম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ কয়েকজন নিখোঁজদের পরিবারের স্বজনেরা। পরে সিঙ্গাপুর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে নিখোঁজ বিএনপির ২০ পরিবারের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন মির্জা ফখরুল।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন