বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় গতকাল সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে হরতালের পক্ষে ও বিপক্ষে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে হরতালের বিপক্ষে মিছিল হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাদের দেখা যায়নি। নাটোরে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে হরতাল সমর্থনকারীরা। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে হরতালবিরোধী মিছিল সমাবেশ করেছে জেলা যুবলীগ। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের শহীদ সাটু হল মার্কেটের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মিছিলটি বঙ্গবন্ধু মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা যুবলীগের সভাপতিমাসিদুররহমান, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হুদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জিয়াউর রহমান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের রাজপথে নামার সাহস নেই, অথচ হরতাল ডেকে বসে আছে। শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জেই নয়, সারা দেশের মানুষই ২০ দলের ডাকা হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে।

ঈশ্বরদী (পাবনা): গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপিরই কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল না। হরতাল পালন করতে মাঠে নামেননি নেতারা। হরতালে ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। বাড়িতে বসেই সময় কাটিয়েছেন তাঁরা। অসুস্থতার অজুহাতে অনেকে আবার ছিলেন ঈশ্বরদীর বাইরে। পিকেটিংয়েও দেখা মেলেনি কর্মীদের। নেতা-কর্মীরা জানান, স্থানীয় কয়েক নেতার দ্বন্দ্বে ঈশ্বরদী বিএনপি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ফলে হরতালে আর নেতাদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। নানা অজুহাতে তাঁরা এবার হরতাল পালন থেকে বিরত রয়েছেন।

দলীয় নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুদ্দিন মালিথা। অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির ওরফে দুলালও রয়েছেন ঈশ্বরদীর বাইরে। গতকাল বেলা ১টা ৩৪ মিনিটে মুঠোফোনে কথা হয় দলের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, হরতাল পালন করা নিয়ে উপজেলা কমিটিতে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা খুবই খারাপ। ঈশ্বরদীতে বিএনপির কয়েকজন নেতার কারণে তাঁদের মন ভেঙে গেছে। তিনি দাবি করেন, গতকাল নিজ এলাকায় কর্মীদের নিয়ে হরতালের সমর্থনে কিছু সময়ের জন্য পিকেটিং করেছেন। হরতালে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপিরও তৎপরতা ছিল না। এ কমিটির অধিকাংশ নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি শহরে। পৌর কমিটির সভাপতি আকবর আলী বিশ্বাস জানান, এখানে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা ভালো না। হরতাল নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও স্থানীয় নেতারা ঝিমিয়ে পড়েছেন। কেউ মাঠে নামতে চাচ্ছেন না।

নাটোর: নাটোর শহরের চকরামপুর এলাকায় নাটোর-ঢাকা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ঝটিকা মিছিল করেছেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। তবে পুলিশ ধাওয়া দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে মিছিলকারীরা পালিয়ে যায়। পরে মহাসড়ক থেকে টায়ার সরিয়ে ফেলে পুলিশ। হরতালের সমর্থনে সকালে নাটোর শহরের স্টেশন এলাকায় মিছিল বের করে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি কিছুদূর যেতেই পুলিশের বাধা পেয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সকাল সাড়ে নয়টায় তাঁরা রেলগেট এলাকায় সমবেত হন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক জানান, পুলিশ তাঁদের মিছিল সমাবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি শহরে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

কুড়িগ্রাম: ২০-দলীয় জোট সকাল ১০টায় হরতালের সমর্থনে শহরের দাদা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে ঘোষপাড়ায় এলে পুলিশ বাধা দেয়। সেখানেই তারা সমাবেশ করে। সমাবেশে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। জেলা বিএনপি পুরোনো পোস্ট অফিসপাড়া কার্যালয় থেকে বেলা ১১টায় মিছিল নিয়ে ঘোষপাড়ায় এলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে তারা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। এ সময় জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল আজিজ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বক্তব্য দেন। হরতাল প্রত্যাখ্যান করে কুড়িগ্রামে গতকাল দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের ঘোষপাড়া কার্যালয় থেকে সাবেক সাংসদ জাফর আলীর নেতৃত্বে মিছিলটি বের করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এক সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্রাহাম লিংকন, আওয়ামী লীগ নেতা আলক সরকার ও অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও নওগাঁয় সমাবেশ, মিছিলসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হরতাল পালন করেছে ২০-দলীয় জোট।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন