আজ একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অবরোধ শিথিল করা হয়নি। অবরোধ অব্যাহত রেখে কাল রোববার থেকে তিন দিনের হরতাল ডাকা হয়েছে। আর সোমবার সারা দেশে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং মহানগরের থানা পর্যায়ে বি‌ক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহেও একইভাবে অবরোধের মধ্যে প্রথমে তিন দিন (৭২ ঘণ্টা) এবং পরে সপ্তাহের বাকি দুই কর্মদিবস হরতাল ডেকে আসছে এই জোট। বিএনপির সঙ্গে এই জোটে আছে জামায়াতসহ ২০টি দল।   

গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জোটের পক্ষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ নতুন কর্মসূচির কথা জানান। নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের গুম, খুন, অপহরণ, পঙ্গু ও আহত করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অবরোধ রেখেই একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে বিএনপি। এ উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাণী দিয়েছেন। শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে দলের সূত্র জানায়। তবে ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ বাদ আসর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। খালেদা জিয়া এতে অংশ নেবেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিএনপির ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্যসচিব হাবিব-উন-নবী খান এক বিবৃতিতে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ভোর ছয়টায় রাজধানীর বলাকা সিনেমা হলের সামনে একত্র হয়ে শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

সূত্র জানায়, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাবেন। এতে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, জমির উদ্দিন সরকার ও আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরীসহ ২০ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন।

৫০ দিনে খালেদা জিয়া: গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ টানা ৫০ দিন পার করছেন খালেদা জিয়া। গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকে এই কার্যালয়ে অবস্থান করছেন তিনি। ৫ জানুয়ারি তাঁকে কার্যালয় থেকে বের হতে দেয়নি পুলিশ। প্রথম দিকে কিছুদিন তাঁকে অবরোধ করে রেখেছিল পুলিশ। পরে অবরোধমুক্ত হলে তিনি বের হওয়ার চেষ্টা করেননি। এখন তাঁর কার্যালয় এলাকা সেভাবে অবরোধ করে রাখা না হলেও ভেতরে ঢোকার ক্ষেত্রে পুলিশের কড়াকড়ি আছে। কার্যালয়ে ঢুকতে গিয়ে অনেকে আটক হয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক উপকমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এখনো তিনি ওই কার্যালয়ে আছেন। বের হলে গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি বের হচ্ছেন না।

এর আগে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়ে এক রাত কার্যালয়ে কাটান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমদ। পরের রাতে তিনি কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে কার্যালয়ে আছেন তাঁর উপদেষ্টা এম এ কাইয়ুম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দীন দিদার, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা সমন্বয়ক আবদুল মজিদসহ পাঁচজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং ১৬ জন নিরাপত্তারক্ষী, আটজন গাড়িচালক। এ ছাড়া আছেন ওই কার্যালয়ের এবং খালেদা জিয়ার বাসার কয়েকজন কর্মচারী।

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই কার্যালয়ে অবস্থানকারী কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীদের খাবার নিতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। তবে খালেদা জিয়া ও সেলিমা রহমানের খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। শুকনা খাবার, সেলিমা রহমানের বাসা থেকে যে খাবার আসে তা, কখনো কার্যালয়ে রান্না করে খাওয়াদাওয়া করছেন কার্যালয়ে অবস্থানকারীরা।

বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান দাবি করেন, তাঁরা শুকনা খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। এখন পর্যন্ত কার্যালয়ে অবস্থানকারীদের চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চায় বিএনপি: দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ জোটের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ সব নাশকতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্ত চেয়েছেন।

বিবৃতিতে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নাশকতা, পেট্রলবোমাবাজি ও সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের সব গুম, খুন, অপহরণ, বন্দুকবাজি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্ত চাই।’

 বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারপ্রধানসহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অবিরাম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিরোধী জোটের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নাশকতা ও জঙ্গিরূপে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারদলীয় লোকজন এবং এজেন্টরা সুপরিকল্পিতভাবে এসব নাশকতায় ধরা পড়লেও তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন