বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উল্লেখ করে জাপার চেয়ারম্যান বলেন, এককথায় দেশের মানুষ ভালো নেই। কোটি কোটি বেকার, কর্মসংস্থান নেই। অভাব–অনটনে যুবসমাজ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলছে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না।

জি এম কাদের বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। চাঁদা না দিয়ে কেউ নিজের জমিতে বাড়িও করতে পারেন না। কৃষিপণ্য সরবরাহে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। ফুটপাতে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অসহায়, দেখার যেন কেউ নেই। এসবের মূল কারণ সরকারের জবাবদিহির অভাব, আইনের শাসনের অনুপস্থিতি।

দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাত থেকে মুক্তি চায় উল্লেখ করে জাপার চেয়ারম্যান বলেন, এ দুটি দল অপকর্ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, লুণ্ঠনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হচ্ছে অচল পয়সার এপিঠ-ওপিঠ। দেশের মানুষ চকচকে নতুন পয়সা চায়। এ অবস্থায় দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকেই বিকল্প শক্তি মনে করছে।

জি এম কাদের বলেন, এখানে এক ব্যক্তির হাতে নির্বাহী বিভাগের সর্বময় ক্ষমতা, তাঁর হাতেই সরকারের জবাবদিহি করার প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশন সৃষ্টি ও নির্বাচন পরিচালনা চাবিকাঠি সেই একই ব্যক্তির হাতে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে সাংবিধানিকভাবে সার্বিক একনায়কতন্ত্র চালু আছে।

নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ। আবারও ব্যর্থ হবে এমন নির্বাচন কমিশন আমরা চাই না।’

দলের মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আইন করতে হবে। সময় নেই, এ কথা বললে চলবে না। সরকার চাইলে আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করে দেব। প্রয়োজনে এই জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনে আমরা আইনটি তুলতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আর কারও সঙ্গে জোট করব না, এককভাবে নির্বাচন করব। তবে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নেতৃত্বে কেউ জোটে আসতে চাইলে দেখা যাবে।’

জাপার কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এখন ঐক্যবদ্ধ, জাতীয় পার্টি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক দল। আমরা মাঠে আছি, মাঠে থাকব। জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাপার কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন, সালমা ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মীর আবদুস সবুর প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু। সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন