default-image

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপে দেশের বিচার বিভাগ বর্তমানে বেশি ‘নিয়ন্ত্রিত’। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, বিচার বিভাগ পৃথক হয়েছে ঠিকই, স্বাধীন হয়নি। বরং এখন বিচার বিভাগ আরও বেশি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।’
আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন।
বিচারক অপসারণে সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনীর উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়ার ফলে এখন বিচারকেরা বেশি নিয়ন্ত্রিত। এ জন্য দেশে আজ ন্যায় বিচার নেই, আইনের শাসন নেই। কারণ আমরা দেখেছি, সরকারি দল হলে এক রকম বিচার হয়, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ হলে আরেক রকম-এটা চলতে পারে না।’
সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপির এমন একজনও নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা নেই। বিএনপির কি সব অপরাধী? আর আওয়ামী লীগের সব কি সুফি হয়ে গেছে? যারা এক সময়ে কেউ ২০ হাজার, কেউ ৩০ হাজার মানুষ গুম-খুন করেছে, যা রেকর্ডে আছে। আজ তারা সব ভালো মানুষ হয়ে গেছে। এই হচ্ছে আজকের বিচার।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা নাকি গাড়ি পোড়ায়। পুলিশও যেভাবে সাজিয়ে দেয় বিচারকেরা তা ভালোভাবে দেখেন না। তাঁরা (বিচারক) একতরফা শাস্তি দেন। এ কারণে আমাদের নেতা-কর্মীদের দিনের পর দিন কারাগারে রাখা হয়, শাস্তি দেওয়া হয়। বিএনপি গাড়ি পোড়ানোর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক নয়।’

তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সময়ে নিজের গাড়িতে গুলিবর্ষণ ও হামলা ঘটনায় সরকার কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, তাহলে একলা বিএনপিকে কেনো সন্ত্রাসী দল বলা হয়। তারা গাড়ি পোড়ায় এই অভিযোগ করা হয়। তিনি দাবি করেন, ‘পুলিশ পেট্রলবোমা না ছুড়লে আমাদের তিন মাসের আন্দোলন বন্ধ হতো না। তারা বাসে আগুন দিয়েছে, পুলিশ নিজেই স্বীকার করেছে। তাদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না? ’
বক্তব্যে খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে মানুষ হত্যা ও ২০০৬ সালে লগি-বৈঠার আন্দোলনে জীবন্ত মানুষ হত্যার উল্লেখ করে বলেন, তাহলে কি আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী দল নয়? তারা সন্ত্রাসী। কত বাসে আগুন দিয়েছে তারা। এভাবে আওয়ামী লীগ প্রতি পদে পদে সন্ত্রাস করছে।

সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন বারের বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ইফতারে অংশ নেন। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন আসন্ন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী করার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।

ইফতারে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন টি এইচ খান, অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, আমীনুল হক, বদরুদ্দোজা বাদল, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর মো. নাসির, আহমেদ আজম খান, নজরুল ইসলাম খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সানাউল্লাহ মিয়া, খোরশেদ আলম, মহসিন মিয়া প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0