default-image

নওগাঁ-৬ (রানীনগর ও আত্রাই) আসনের উপনির্বাচনের ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ভোট বর্জন করেছে বিএনপি। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আত্রাই উপজেলা সদরের নাহার গার্ডেন মার্কেটে দ্বিতীয় দফায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘দু–তিন দিন ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মারধর করে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা। আজ ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে চিহ্নিত বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা। ১০৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি বুথে ধানের শীষের এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল। সকাল ৯টার সময় ভোট শুরুর পরপরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

রেজাউল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, কোনো কোনো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্টরা নৌকা প্রতীকে ভোটারদের ভোট দিয়ে দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও তাঁরা কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এই উপনির্বাচনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মিথ্যাচার করা বিএনপির কাজ। ভোট সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হচ্ছে। বিএনপি প্রার্থীর কোনো এজেন্টই দিতে পারেননি। তাঁদের এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বড় ধরনের সহিংসতা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির প্রার্থী তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার যে অভিযোগ করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক কেন্দ্র বিএনপির কোনো এজেন্ট দেওয়া হয়নি।

ভোটার উপস্থিতি কম

সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট গ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৫টায়। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

দুপুরে আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে ভোটারদের কোনো সারি নেই। কিছুক্ষণ পর একজন-দুজন করে ভোটার ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৩৭৮ জন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৮০টি, যা মোট ভোটারের ১২ শতাংশের কিছু কম। ওই কেন্দ্রে ছয়টি বুথের কোনোটিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, তালিকা দিলেও বিএনপির কোনো এজেন্ট এখানে কোনো বুথেই দায়িত্ব পালন করতে আসেননি। ভোট শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হচ্ছে। কেন্দ্রের ভেতর কিংবা বাইরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রানীনগর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার শফিকুল ইসলাম, জুয়েল রানা, মোকাব্বেরসহ বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের ভেতর ঢুকতে চাইলে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের ঢুকতে বাধা দিয়েছেন। পরে ভোট না দিয়েই তাঁরা ফিরে আসেন।

রানীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন। ১০৪টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী ইন্তেখাব আলম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0