default-image

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত আছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)।

গত ২২ জুন থেকে এরশাদ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন আছে এরশাদ। গত বৃহস্পতিবার থেকে এরশাদকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এরশাদের শারীরিক অবস্থা গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে ব্রিফ করেন কাদের।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে আজ জি এম কাদের বলেন, গত দুই দিন ধরে এরশাদকে ডায়ালাইসিস (হেমো ডায়া ফিল্টারেশন এবং হেমো পারফিউশন) দেওয়া হচ্ছে। এতে এরশাদের শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় পানি বের করা হচ্ছে এবং ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কাদের বলেন ‘চিকিৎসকেরা আশাবাদী, অত্যাধুনিক চিকিৎসায় এরশাদ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তবে তাঁর অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।’

গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, সিএমএইচের চিকিৎসকেরা এরশাদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সকল রিপোর্ট সিঙ্গাপুরে পাঠিয়েছেন। কিন্তু সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা এরশাদকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেছেন। কাদের বলেন, কৃত্রিম ভাবে এরশাদের শ্বাস-প্রশ্বাস চলেছে, তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে কৃত্রিম সাপোর্ট খুলে ফেলা হবে।

সারা দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় গতকাল ধর্মপ্রাণ মানুষ এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা করেছেন। এ জন্য কাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানান। কাদের বলেন, গতকাল শুক্রবার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চিকিৎসায় রক্ত প্রয়োজন—এমন সংবাদে হাজারো মানুষ সিএমএইচে উপস্থিত হয়েছেন। তারা চিকিৎসকদের কাছে তাদের নাম-ঠিকানা দিয়ে এসেছেন। এরশাদকে রক্ত দিতে সাধারণ মানুষ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছেন। যারা রক্ত দিয়েছেন এবং রক্ত দিতে চেয়েছেন তাদের কাছেও কৃতজ্ঞতা জানান জি এম কাদের।

এ ব্রিফিংয়ের সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।


এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, আজম খান, রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, এসএম ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, আলমগীর সিকদার লোটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন