বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বছরের ১৬ মে সুবল সাহার বাড়িতে হামলা হয়। ঘটনার দুই দিন পর মামলা হয়। পরে একই বছরের ৭ জুন রাতে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ খন্দকার মোশাররফের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ভাই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। এর দুই দিন পর খন্দকার মোশাররফ ঢাকায় চলে যান। এরপর গত ১৫ মাসে তিনি ফরিদপুরে দুই দফা এসেছেন। তবে এক রাতের বেশি থাকেননি। অথচ ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের ৭ জুনের আগ পর্যন্ত ফরিদপুরে কোনো ব্যক্তির ভাগ্য বা অবস্থান কী হবে, টেন্ডার পাবেন কি পাবেন না, কে কোন পদে বসবেন ইত্যাদির নিয়ন্তা ছিলেন দুই ভাই বরকত-রুবেল, সাংসদের এপিএস এ এইচ এম ফোয়াদ, ভাগনে জামাই আরিফুর রহমান ওরফে দোলন।

বরকত-রুবেল গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলের নেতারা কার্যত তিন ভাগ হয়ে যান। একটি ধারার নেতৃত্বে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন। আরেকটি ধারার নেতৃত্বে আসেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামীম হক ও পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস। তৃতীয় ধারাটি ধরে রাখেন ‘মোশাররফপন্থী’ হিসেবে পরিচিত নেতা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান ও যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী ফরিদপুর সদরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দেন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ধারা হয় নেতাকেন্দ্রিক। তবে ফরিদপুরে এই অনৈক্য নেতাকেন্দ্রিক নয়, এখানে অনৈক্য হয় টাকাপয়সা অর্জনের গোলমালের কারণে। আর ঐক্য আদর্শের ভিত্তিতে না হলে সেটা অটুট থাকে না।
শামসুল হক, চেয়ারম্যান, ফরিদপুর জেলা পরিষদ

গত ৬ জানুয়ারি দলের জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ কে আজাদ সম্পর্কে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল হক ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে আবার বিরোধ দেখা দেয়। গত আগস্টে এই অবস্থার অবসানে এগিয়ে আসেন কয়েকজন নেতা। তাঁদের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট কবি জসীমউদ্‌দীন হলে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোলাকুলি করেন এ কে আজাদ ও শামসুল হক। একই দিন বিকেলে কবি জসীমউদ্‌দীন হলে যুবলীগ আয়োজিত অন্য একটি অনুষ্ঠানে সাংসদ মুজিবর রহমান আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশকে ‘ষড়যন্ত্রকারী এবং মোশতাকের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন। ওই সভায় ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সাংসদ মঞ্জুর হোসেন, ফরিদপুর-২ আসনের সাংসদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহাদাব আকবর চৌধুরী।

এরপর সাংসদ মুজিবর রহমানের তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বার্ষিকীতে ‘বিভেদ’ ভুলে এক কাতারে শামিল হন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা বলেন, ফরিদপুর সদরে কোনো বহিরাগত বা ভাড়াটেকে নাক গলাতে দেওয়া হবে না। বহিরাগত বলতে আব্দুর রহমান ও নিক্সন চৌধুরীকে বুঝিয়েছেন বলে জানান নেতারা।

জানতে চাইলে নিক্সন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা বহিরাগত বলছেন, তাঁরা কোন যুক্তিতে বলছেন, তা বোধগম্য নয়। আমার বাড়ি ভাঙ্গায়।’ আর আব্দুর রহমান বললেন, আওয়ামী লীগ নেতারা বহিরাগত সম্পর্কে যে কথা বলছেন, সেটা বলার অধিকার তাঁদের আছে। কেননা স্থানীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা রাখার কথা।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ধারা হয় নেতাকেন্দ্রিক। তবে ফরিদপুরে এই অনৈক্য নেতাকেন্দ্রিক নয়, এখানে অনৈক্য হয় টাকাপয়সা অর্জনের গোলমালের কারণে। আর ঐক্য আদর্শের ভিত্তিতে না হলে সেটা অটুট থাকে না।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামীম হক বলেন, বিতর্কিত ওই চারজন পৌর কমিটিতে থাকবেন না। তাঁদের দ্রুত বাদ দেওয়া হবে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন