বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক সময়ে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অবদান নিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার মন্তব্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিএনপির মহাসচিব আজ এসব মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

মির্জা ফখরুল আজ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে যুদ্ধ না করলে, এই দেশ স্বাধীন হতো না। যে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর যুদ্ধ শুরু হলো, তাঁকে নিয়ে তোমরা কথা বলো।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আর এরা (আওয়ামী লীগ) কেমন ধর্মহীন ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে, যে তাঁর কবর নিয়ে কথা বলছে। তারা আমাকে চ্যালেঞ্জ করে। বলে আপনি কী দেখেছেন। আমিও চ্যালেঞ্জ করেছি যে আমি দেখেছি। ২ জুন যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লাশ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হলো, তখন আমি সেখানে ছিলাম। লাখ লাখ লোক তাঁর জানাজায় শরিক হয়েছেন। সব মানুষ একটাই দোয়া করছিলেন, আল্লাহতাআলা বাংলাদেশকে হেফাজত কর। কারণ, এই যে জিয়াউর রহমান চলে গেলেন, এই লোকটার সঙ্গেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব একাকার হয়ে গিয়েছিল। আজ সেই লোককে আওয়ামী লীগ অপমান করতে চায়। বিভিন্ন রকম কটূক্তি করে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ব্যর্থতার জন্য পদত্যাগ করে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশকে রক্ষা করেন। আর তা না হলে দেশের মানুষই আপনাদের ঘাড় ধরে টেনে নামাবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, যাঁরা সরকারে আছে, তাঁরা কেবল বড়ই হচ্ছেন। তাদের চুনোপুটিগুলোও রুই–কাতলা হয়ে গেছে। আর সাধারণ মানুষ গরিব থেকে গরিব হচ্ছেন। কৃষকেরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এখানে যাঁরা সবজি চাষ করেন, তাঁরা পাঁচ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন। আর ঢাকায় বিক্রি হয় ৮০ টাকায়। সরকার একটা রাস্তা করবে না যে কৃষককে বাঁচাতে পথ বের করতে হবে।

দেশের মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতি আজ সংকটে। আমাদের এই সংকটের উত্তরণ ঘটাতে হবে। গোটা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সব গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিটি স্কুল–কলেজে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। কারণ, ছাত্র-যুবাদের ছাড়া কোনো পরিবর্তন আসে না। সে সময় মঞ্চের পাশ থেকে যুবদলের এক কর্মী চিৎকার করে বলেন, ‘আমরা আপনার ডাকের অপেক্ষায় আছি।’ সে সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডাক লাগে না। আমাদের কেউ ডাক দেয়নি। নিজেরাই নেমে পড়তে হবে। যখন ডাক আসবে, তখন তো নেমে পড়তেই হবে। কিন্তু তার আগে নিজেদেরও শক্তি দেখাতে হবে। লোকজনের কাছে যেতে হবে। এখন কাজ একটাই সংগঠন গড়ে তোলো আর চলে যাও মানুষের কাছে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সভাপতি রাজিউর রহমান চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন