ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির কমিটিতে পদ পেতে নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এদিকে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় ইউনিটগুলো।
দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা দক্ষিণ বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। ২০১২ সালে ১৮৪ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি হিসেবে সেটি কেন্দ্রের অনুমোদন পায়। কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। গত বছরের ২৩ নভেম্বর দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সম্মেলনের দুই দিন আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করে অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে প্রশাসন। দ্বিতীয় দফায় এ বছরের ৪ জানুয়ারি প্রতিনিধি সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে প্রশাসনের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। সে সময় সংঘর্ষের আশঙ্কায় প্রশাসন অনুমতি দেয়নি।
এদিকে দক্ষিণ বিএনপির অধীন ১১টি ইউনিট কমিটির ২২ জন সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে ১৮ জন স্বাক্ষরিত একটি প্রস্তাব গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সাবেক সাংসদ শামছুদ্দিন আহমেদকে সভাপতি ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফকরউদ্দিন আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করার কথা বলা হয়েছে।
ফকরউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খারাপ সময়ে দলের হয়ে কাজ করেছি। জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। তাই দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কেন্দ্র যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে আমি দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাব।’
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম মো. ওয়ালিদ বলেন, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় এবং বিভিন্ন সময়ে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ওই দুজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁরা দায়িত্ব পেলে তৃণমূলের মতামতই প্রাধান্য পাবে।
দলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এর বাইরে আরও অন্তত চারজন নেতা দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য কেন্দ্রে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাঁদের তিনজন বেশির ভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, একশ্রেণির নেতা আছেন, যাঁরা বেশির ভাগ সময়ে ঢাকায় অবস্থান করেন। কিন্তু কমিটি গঠনের সময় তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে কেন্দ্রে তদবির করেন। ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান ও মুক্তাগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন ব্যবসার কাজে ঢাকায় থাকেন। তাঁরা পছন্দের পদ পেতে তদবির করছেন। এ ছাড়া ভালুকা উপজেলার হরিববাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মোর্শেদ আলমও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।
এ সম্পর্কে ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। জেলা পর্যায়ে কোনো দায়িত্ব নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ যদি মনে করেন আমি জেলা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে সম্মেলনের পক্ষে নই, তাহলে সেটি ভ্রান্ত ধারণা।’
অন্যদিকে জাকির হোসেনের ভাষ্য, ‘দলের যে-কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করে গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করতে পারেন। তবে কেন্দ্র যাঁকে যোগ্য মনে করে তাঁকেই গুরুত্বপূর্ণ পদ দেবে।’ এ বিষয়ে জানতে গতকাল শনিবার বিকেলে মোর্শেদ আলমের মুঠোফোনে ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) এমরান সালেহ বলেন, দলের যেকোনো নেতাই নিজের ইচ্ছার কথা কেন্দ্রে জানাতে পারেন। ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বসবাসকারী হিসেবে কাউকে বিভক্ত করা ঠিক নয়। দলের চেয়ারপারসন পুনর্গঠনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। তিনি যাঁকে যোগ্য মনে করবেন, তাঁকেই দায়িত্ব দেবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন