মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে সাতটিতেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কায় আছেন ভোটাররা। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে লক্ষীপুর, আলীনগর, বাঁশগাড়ী, কয়ারিয়া, সাহেবরামপুর, চরদৌলতখান ও শিকারমঙ্গল। নির্বাচনের আগের দিন গতকাল শুক্রবার ইউনিয়নগুলোতে ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
দেখা গেছে, কালকিনির ১২টি ইউনিয়নে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে আওয়ামী লীগের মনোনীত ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। দুই পক্ষই বেশ শক্ত অবস্থানে থাকায় কেউই মাঠ ছাড়তে রাজি না। এ অবস্থায় সেটার প্রভাব পড়েছে ভোটারদের মাঝে। আটটি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে সাহেবরামপুর ইউনিয়নের আন্ডারচর গ্রামে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান জামাল মোল্লার এক সমর্থক খুন হওয়ার ঘটনায় সেখানকার ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামাল মোল্লার সমর্থকদের ওপর আওয়ামীগ লীগের প্রার্থী কামরুল আহসানের সমর্থকেরা গুলি চালিয়েছেন বলে অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গতকাল আন্ডারচর গ্রামটি ঘুরে সেখানকার অন্তত ২০ জন অধিবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই দুই প্রতিবেদক। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই বলেছেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও খুনের ঘটনায় তাঁরা শঙ্কিত। এলাকার হাচেন আকনের হাটে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘সাহেবরামপুরে আগে কোনো ইলেকশনে এ রহম ঘটনা দেহি নাই। কাইল ভোট দিতে যামু কি না, সেইডা এহনো কইতে পারতাছি না।’
মঙ্গলবার রাতে কালাম শিকদার ওরফে কালু শিকদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল আহসানকে। তিনি এখনো কালু শিকদারের পরিবারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কে­উ কেউ। বুধবার সন্ধ্যায় কালু শিকদারের দাফনের পর থেকে তাঁর দুই স্ত্রী ও চার সন্তান বাড়িছাড়া। গতকাল তাঁর বাড়িতে গিয়ে কাছের দু-একজন আত্মীয়ের দেখা মিললেও কালু শিকদারের পরিবারের কাউকে দেখা যায়নি। তাঁরা এই মুহূর্তে কোথায় আছে, সেটাও বলতে পারেন না কেউ।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কামরুল আহসানের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। আসাদুজ্জামান মোল্লা বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে বারবার প্রতিকার চেয়েও তিনি পাননি।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় আলীনগর ইউনিয়নে ফাঁসিয়াতলা বাজারে ব্যাপক বোমাবাজি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী হাফিজুর রহমানকে দক্ষিণ কানাইপুর এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিকেলে ওই ইউনিয়ন ঘুরে আসার সময়ও সেখানকার লোকজন এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন। এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, সেখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে একটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে কোনো বোমাবাজির ঘটনা ঘটেনি। হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর সত্য না।
এদিকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এইচ এম গোলাম মোস্তফাও সাহেবরামপুর, আলীনগরসহ লক্ষীপুর ও বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ প্রথম আলোকে জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি লোকে যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। কোনো সহিংসতা যেন না হয়।’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন