বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘গুম’ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আট বছর ধরে আমরা এই পরিবারগুলোর কান্না শুনছি। আমরা শিশুদের কান্না শুনেছি। এখনো তাঁদের শিশুরা অপেক্ষা করে থাকে, কখন বাবা ফিরে আসবে। এ রকম একটা ভয়াবহ মর্মস্পর্শী পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি। বাংলাদেশে কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, তা আমাদের বারবার বলার প্রয়োজন নেই।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আজ ন্যূনতম চিকিৎসার অধিকার পাচ্ছেন না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একটা কথা খুব পরিষ্কার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র—এ দুটো পরস্পরের পরিপূরক। গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকার কোনো দিন রক্ষা হতে পারে না। আর মানবাধিকার ছাড়া কখনো গণতন্ত্র চলতে পারবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রায় ৬০৭ জন গুম হয়েছে। আমাদের সহস্রাধিক রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আপনি ঢাকা কোর্টে যান, জেলা আদালতগুলোতে যান, দেখবেন, যাঁরা আসামি হয়ে আসছেন, তাঁদের ৯০ ভাগই বিএনপির নেতা-কর্মী।’

দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসন দলীয়করণ করার অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন একটা অবস্থা হয়েছে যে বিচার বিভাগের ওপর এ দেশের মানুষ কোনো আস্থা রাখতে পারছে না। কারণ, বিচার বিভাগের কাছে মানুষ কোনো বিচার পাচ্ছে না। প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, আজ যাঁরা গণমাধ্যমকর্মী আছেন, তাঁরা সবচেয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে এখন কথা বলার স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক তাজমেরী এম ইসলাম, বিএনপির সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলীর ছেলে আবরার ইলিয়াস, বিএনপির সাজেদুল ইসলামের ভাগনি আফরা আনজুম, ওমর ফারুকের স্ত্রী পারভীন আখতার, ছাত্রদলের মাহবুবুর রহমানের বোন ঝুমুর আখতার বক্তব্য দেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন