বগুড়ার সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ অমান্য করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে সম্মেলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমতি ছাড়া ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক কমিটি ভাঙা বা বিলুপ্ত না করার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ১ মার্চ জেলা ও উপজেলা বা পৌর কমিটিকে চিঠি দেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তাঁরা কেন্দ্রের চিঠি পেলেও বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের সাংসদ আবদুল মান্নানের মৌখিক নির্দেশে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন করছেন।
এদিকে কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার জন্য সতর্ক করে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমানের সই করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কমিটি গঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়া দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ বা দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক যেকোনো পর্যায়ের কমিটি ভাঙা বা বিলুপ্ত করা সাংগঠনিক বিধিবহির্ভূত।
তবে ১২ মার্চ সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। ১৬ মার্চ একই উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন আহ্বান করা হয়। ১০ মার্চ সাংসদ আবদুল মান্নানের উপস্থিতিতে সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিন পর সম্মেলন হয় চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে। এদিকে ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় সোনাতলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলন। এক দিন পর একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলন হয়।
জানতে চাইলে সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সই করা পৃথক চিঠি পেয়েছি। তবে তাতে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালানো যাবে না, এমন উল্লেখ নেই। সোনাতলা উপজেলায় ৭২টি ওয়ার্ডের মধ্যে সব কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। সংগঠনকে চাঙা করতে ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ ওয়ার্ডে গঠনতন্ত্র মোতাবেক সম্মেলন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অবশিষ্ট ওয়ার্ডে সম্মেলন শেষ করতে সাংসদ আবদুল মান্নান বলেছেন।’
সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, কয়েক বছর ধরেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে সাংসদ অবশিষ্ট ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন শেষ করতে বলেছেন।
তবে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (উপজেলা কমিটি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত) ও পৌর মেয়র আলমগীর শাহী অভিযোগ করেন, ‘আমাকে না জানিয়েই আবদুল খালেক নামের একজনকে উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেখিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সম্মেলন করা হচ্ছে। অথচ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, কাউকে বহিষ্কার করার এখতিয়ার একমাত্র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের।’
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির চিঠি উপেক্ষা করে দুই উপজেলায় কমিটি ভাঙার তৎপরতা অব্যাহত রেখে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে।
সাংসদ আবদুল মান্নান বলেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের চিঠিতে মেয়াদোত্তীর্ণের আগে কোনো কমিটি ভাঙা বা বিলুপ্ত না করার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতার চিঠির বিষয়ে অনেকেই ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তৃণমূলের সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ চলছে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় সব ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন সম্মেলন শেষ করে উপজেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাঁর চিঠিতে যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা উল্লেখ করে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশ মানা হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন