কোথাও না কোথাও গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকছে: জি এম কাদের

বিজ্ঞাপন
default-image

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রায়ই কোথাও না কোথাও গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকছে। বেআইনি কাজ বন্ধ করতে প্রয়োজন আইনি ব্যবস্থা। বেআইনিভাবে বেআইনি কাজ প্রতিরোধ ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
আজ বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে জি এম কাদের এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পরও লাশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যের মধ্যে গরমিল দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যখন শুরু হয়েছিল বিএনপির আমলে, তখন একটি বাহিনীর ‘যৌথ বাহিনী’ সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আইন করে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। যেসব ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের শিকার হতেন, তাঁরা সমাজবিরোধী ও আইনবিরোধী হিসেবে বিবেচিত হতেন। মামলা জট, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দোষী ব্যক্তিরা বিচার এড়িয়ে যেতে পারতেন। সে কারণে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দ্রুততার সঙ্গে বিচার হচ্ছে, এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য হতো। সাধারণ মানুষ ততটা খারাপ মনে করতেন না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জি এম কাদের বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে ভাড়াটিয়া বাহিনী হিসেবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আসছে, মামলায় প্রমাণ হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান, চরমপন্থীদের দমন, সন্ত্রাসী দমন, ধর্মীয় উগ্রপন্থী দমনের নামে পরিচালিত কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা সংগঠিত হয়। রাজনৈতিক কর্মী, বিভিন্ন পেশার কর্মজীবীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রোষের শিকার হয়ে বন্দুকযুদ্ধের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাপার চেয়ারম্যান বলেন, অনেক সময় বলা হয়, কোনো বাহিনী জড়িত নয়। সে ক্ষেত্রে তারা দায় এড়াতে পারে না। অপরাধীকে খুঁজে বের করার দায়িত্বও তাদের।
জি এম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম–দুর্নীতির খবর প্রায় প্রতিদিন আসছে। কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, জনগণ জানছে না। দুর্নীতির জন্য সরকারের অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তবে তাঁরা বিশ্বাস করেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নেবেন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য–উপাত্ত তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, করোনা শনাক্তের পরীক্ষা বাড়ানো হলে আক্রান্তের সংখ্যা, এমনকি মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে। রোগের প্রাদুর্ভাব কমেছে বা কমতে শুরু করেছে, এমন কোনো লক্ষণ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে হঠাৎ করে ঘোষণা দিয়ে কিছু সরকারি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে। চিকিৎসাব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে সেখানেও অনেকে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ছাড়া গত্যন্তর থাকছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন