default-image

মাতুয়াইল আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন তাঁরা। বেসরকারি চ্যানেলের টিভি ক্যামেরা ও সাংবাদিক আসতে দেখে ভোটারদের জন্য নির্ধারিত লাইনে দাঁড়িয়ে যান। একজন একজন করে কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে থাকেন। কেন্দ্রের মূল ফটকে দাঁড়ানো এক আনসার সদস্য তাঁদের বললেন, ‘আপনারা ঢুকে ঘোরাফেরা করে চলে আসেন।’

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আজ শনিবার সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে মাতুয়াইল কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) জিয়াউর ইসলামের কাছে জানতে চাইলাম, ‘আপনারা এদের ঢুকতে দিলেন কেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘আপনারা তো আমাদের চেয়ে জ্ঞানী মানুষ।’

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একজনের কাছে জানতে চাইলাম, ‘নাম কী? ভোটার কি না?’ তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে হাসলেন।

মাতুয়াইল আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ১০১ নম্বর কেন্দ্র। সকাল ১০টার দিকে এখানকার ৫০১ নম্বর কক্ষে ঢুকে দেখা গেল বুথের ভেতরে ভোট দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কালো কাপড়ে ঘেরা জায়গায় দুজন ঢুকে ভোট দিচ্ছেন। পাশেই ছিলেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন, মো. আনোয়ারুল হক। আরও ছিলেন শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) সুখদেব।

বিজ্ঞাপন

যাঁরা ভোট দিচ্ছিলেন তাঁদের একজনের গলায় নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারের কার্ড ঝোলানো ছিল। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের কাছে জানতে চাই, ‘দুইজন ঢুকে ভোট দিলেন কীভাবে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘না করেছি। কিন্তু আমরা তো অন্য এলাকা থেকে এসেছি। আপনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।’

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসাইন বলেন, এ রকম কোনো কিছু তাঁর চোখে পড়েনি।

এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৮৫৯ জন। এখানে সব বুথেই শুধু নৌকা প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন। আর কোনো দলের এজেন্ট ছিলেন না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোবারক হোসেন বলেন, ধানের শীষের কয়েকজন এজেন্ট এসেছিলেন। তাঁরা মনে হয়, আশপাশে চা-টা খাচ্ছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0