বেলা আড়াইটার মতো বাজে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের চারতলায় সংস্কৃত বিভাগের শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নিচ্ছেন বিভাগের চেয়ারম্যান। শিক্ষার্থীদের আসন ফাঁকা নেই।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিক। এখন ক্লাস-পরীক্ষা নিয়মিত হচ্ছে। চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনও। অবরোধ-হরতালের প্রথম দিকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকলেও এখন তা বাড়ছে।
গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অসীম সরকার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্লাসে আসছে। শিক্ষক হিসেবেও ছাত্রদের নিয়মিত ক্লাস করানো আমাদের দায়িত্ব। তবে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ছোটখাটো ঘটনা ঘটেই চলেছে।’
গতকাল দুপুরেও উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে শাহবাগ থানা সূত্র জানিয়েছে, এতে কেউ হতাহত হয়নি। গত ৫ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুই শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে আহত হন ১০-১২ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহন করা তিনটি বাসেও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল সকাল আটটার দিকে মল চত্বরে বেশ কটি বাস ছিল। মিরপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী হামিদুল হক বলেন, ‘আমাদের বিভাগের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী হলে থাকে। তাঁরা ক্লাস করেন। তাই আমাদেরও আসতে হয়। তবে রাস্তায় একটু ভয় কাজ করে।’
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৩০২টি পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেশ কিছু পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে সেগুলো হরতাল-অবরোধসংক্রান্ত নয় বলে দাবি কর্মকর্তাদের।
বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাদা দলের একাধিক শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা চাইলে ক্লাস করাতে হয়। তা ছাড়া দলের পক্ষ থেকে ক্লাস বর্জনের মতো কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। তবে স্বাভাবিক ক্লাস হচ্ছে, তা মানতে নারাজ সাদা দলের সিন্ডিকেট সদস্য লুৎফর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো সব সময়ই হয়েছে। এখনো হচ্ছে। তবে সব জায়গায় যে ক্লাস হচ্ছে, তা নয়।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন