হাছান মাহমুদ বলেন, প্রতিবছর দেশে এক শতাংশ কৃষিজমি কমে যায়। এভাবে প্রতিবছর যদি দুই লাখ একর কৃষিজমি হারিয়ে যায়, তাহলে শেষ নাগাদ এই দেশে আর কৃষিজমি থাকবে না। ২০ বছর পর বাংলাদেশে লোকসংখ্যা আরও ৪ কোটি বৃদ্ধি পাবে। আর ৪০ লাখ একর কৃষিজমি কমে যাবে। বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তার কী হবে, সে জন্য জনসচেতনতা যেমন দরকার, একই সঙ্গে যাঁরা এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

খাদ্যনিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে দেশে কৃষিজমি রক্ষা একান্ত প্রয়োজন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিবিদদের নানা উদ্ভাবন ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে শুধু পৃথিবীকে নয়, বিশ্ব খাদ্য সংস্থাকেও অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, পৃথিবীতে আয়তনের দিক দিয়ে ৯২তম বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং মাথাপিছু সর্বনিম্ন কৃষিজমির দেশ। ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এ দেশের নিত্যসঙ্গী।

এসব কারণে এ দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাভাবিকভাবেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমরা ধান ও মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে চতুর্থ, আলু উৎপাদনে সপ্তম।

গণমাধ্যম মানুষকে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা কৃষির এ বিষয়গুলো যদি তারা (গণমাধ্যম) আরও বেশি তুলে ধরে, তাহলে দেশ উপকৃত হবে। খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখা সহজ হবে।

সেমিনারে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখন মাঠে বড় ধরনের কোনো ফসল নেই। এ বন্যায় যতটুকু ক্ষতি হবে, সেটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। সে জন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছে। ফলে এ বন্যায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।

সরকারের কাছে পর্যাপ্ত বীজ সংরক্ষিত আছে উল্লেখ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বন্যায় আমন ধানের ক্ষতি হবে না। সারা দেশে খুব বেশি বীজতলা করা হয়নি এখনো।

যা হয়েছে, সেটাও নষ্ট হলে খুব সমস্যা হবে না। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বীজ সংরক্ষিত আছে, পরবর্তী সময়ে সেগুলো চাষিদের দেওয়া হবে।’

তবে আউশে ধানের একটু বেশি ক্ষতি হতে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখন ১১ লাখ হেক্টর আউশের লক্ষ্য ছিল। এর মধ্যে ২২ হাজার হেক্টর এখন পর্যন্ত প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া ৩ লাখ ৮৭ হাজার হেক্টরে বিভিন্ন শাকসবজি আছে। সেগুলোর কিছু ক্ষতি হবে।

চ্যানেল আই পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, দৈনিক জনকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার কাউসার রহমান ও দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ আলোচনায় অংশ নেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন