হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার সকাল থেকে সেখানে পর্যায়ক্রমে অবস্থান, মানববন্ধন, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে আজ দুপুরে কার্যালয়ে অবস্থানকারী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য খাবার ভেতরে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি।

বেলা ১১টার পর খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নেতা-কর্মীরা। দলটির সভাপতি ও ওই এলাকার সাংসদ আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন নেতা-কর্মী প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি স্থানীয় সাংসদ। তাই হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছেন। হরতাল-অবরোধের নামে জ্বালাও-পোড়াওয়ের প্রতিবাদ করছেন তাঁরা।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে বাড্ডা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এরপর আসে কালাচাঁদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারাও হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করে।

এ ছাড়া মুজিব সেনা লীগ নামের একটি সংগঠন খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে কার্যালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ ৮৬ নম্বর সড়কের মাথায় তাঁদের আটকে দেয়। সেখানে তাঁরা িবক্ষোভ দেখিয়ে চলে যান। এ ছাড়া তাঁতী লীগের নেতা-কর্মীরাও একই দাবিতে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় কিছুক্ষণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

আজও খাবার নিতে বাধা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সোয়া দুইটার দিকে একটি রিকশায় করে খাবার নিয়ে আসা হলেও পুলিশ তা ফিরিয়ে দেয়। গত বুধবার রাতে প্রথম এ ধরনের বাধা দেওয়া হয়। এরপর আজ পঞ্চম দিনের মতো একই ঘটনা ঘটল। তবে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান গতকাল একটি গণমাধ্যমকে বলেন, দোকান থেকে খাবার আনা হয়। কিন্তু চার দিন ধরে কার্যালয়ের ফটকে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খাবার প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন। এর কারণও তাঁরা বলছেন না। এর মধ্যে এক দিন সামান্য কিছু খাবার ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। কিছু শুকনো খাবার সংরক্ষণ করা আছে। যেমন: বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর, চিড়া। খাবার পানিও যদি আসতে না দেয়, তাহলে আজকালের মধ্যে তা-ও শেষ হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন