বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানকারী কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীদের খাবার আবারও ফেরত পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সিএনজিচািলত একটি অটোরিকশায় করে বিরিয়ানির প্যাকেট ও পানির বোতল কার্যালয়ের গেটের সামনে আনা হয়। তখন সাদাপোশাকের গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা খাবারসহ অটোরিকশাটি ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে ফেরত পাঠান।
খালেদা জিয়ার প্রেস উইংয়ের সদস্য শাইরুল কবির খানের দাবি, গতকাল সকাল থেকে ভেতরে অবস্থানকারী কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীরা অভুক্ত ছিলেন। তাই দুপুরের খাবার হিসেবে বিরিয়ানির প্যাকেটগুলো আনা হয়। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তা ফেরত পাঠিয়েছেন। আগের রাতে খাবার আনতে না দেওয়ায় চিড়া-মুড়ি খেয়ে রাত কাটিয়েছেন তাঁরা।
খাবার ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিবিসিকে বলেন, ‘এটা একটা বাস্তব-বিবর্জিত কথা। এ ধরনের কোনো অ্যাকশন আমাদের পুলিশ কিংবা নিরাপত্তা বাহিনী নেয়নি। তাদের ওখানে পাকঘর আছে, রীতিমতো খাবার যাচ্ছে এবং খাবারের উপকরণ যাচ্ছে।’ সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা খাবার প্রবেশে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা দিতে দেখেছেন, এমনটা জানানো হলে মন্ত্রী বলেন, এক দিনই একটা ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে খাবার-দাবার যাচ্ছে। তিনি খাচ্ছেন এবং সুস্থও আছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর পর্যন্ত কার্যালয়ে থাকা ব্যক্তিরা ওয়াসার লাইনের পানি ফুটিয়ে পান করেছেন। তবে বিকেলে ফিল্টারের পানির জার ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। রাত আটটা পর্যন্ত রাতের খাবার নেওয়া হয়নি। কার্যালয়ে অবস্থানরত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীদের খাবার নিতে বাধা দেওয়া হলেও খালেদা জিয়ার খাবার নেওয়া হয় আত্মীয়ের বাসা থেকে, সেই খাবার নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান বিবিসিকে বলেন, দোকান থেকে খাবার আনা হয়। কিন্তু চার দিন ধরে কার্যালয়ের ফটকে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খাবার প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন। এর কারণও তাঁরা বলছেন না। এর মধ্যে এক দিন সামান্য কিছু খাবার ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। কিছু শুকনো খাবার সংরক্ষণ করা আছে। যেমন: বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর, চিড়া। খাবার পানিও যদি আসতে না দেয়, তাহলে আজকালের মধ্যে তা-ও শেষ হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন