বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে তিন দিন ধরে খাবার প্রবেশে পুলিশ বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বুধবার রাতে খাবার প্রবেশে প্রথম বাধা দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ও সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ওই কার্যালয়ের জন্য আনা খাবার ফটক থেকে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঢাকার বাইরে আছেন। এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
ওই কার্যালয়ে অবস্থানরত বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানরত নেতা-কর্মী, কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য বাইরে থেকে রান্না করা খাবার আনা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে সংবাদকর্মীদের সামনে গুলশান থানার এক এসআইয়ের (উপপরিদর্শক) নেতৃত্বে পুলিশ আমাদের খাবারের ভ্যান নিয়ে গেছে।’ তিনি জানান, কার্যালয়ের ভেতরে যাঁরা আছেন, তাঁরা এখন শুকনো খাবার, ফলমূল, জুস ইত্যাদি খেয়ে ক্ষুধা মেটাচ্ছেন।
খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে খাবার প্রবেশে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মুঠোফোনে গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর আছে, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের ভেতরে রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে, খাবার-দাবার রান্না হচ্ছে। এলাহি কাণ্ড। তবে খাবার নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে কি না, সেটা আমি জানি না। আমি ঢাকার বাইরে আছি।’
গুলশান থানার পুলিশও দাবি করেছে, খাবার প্রবেশে কারা বাধা দিয়েছে তা তারা জানে না।
খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, পুলিশ খাবার নিতে বাধা দেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার কার্যালয়ের ভেতরেই সাদামাটা রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। ওই দিন বিকেলে কার্যালয়ের ভেতরে আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়ার পর তবারক দেওয়া হয়। অনেকে সেটা খেয়েছেন। গতকাল কোনো রান্নার ব৵বস্থা ছিল না।
এদিকে গতকাল বেলা ১১টার দিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী, ওই দলটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যায়। পুলিশ প্রতিনিধিদলকে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান এবং আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে নাসরিন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল সেখানে গিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন