বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বললেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর আইনি সুযোগ নেই— এটা ডাহা মিথ্যা কথা। আইনি সুযোগ রয়েছে। যে ফৌজদারি আইনের ৪০১ ধারার কথা বলছেন, সেখানেই বলা আছে যে সরকার চাইলে তাঁকে মুক্তি দিতে পারেন, বিদেশে পাঠাতে পারেন চিকিৎসার জন্য, সরকার চাইলে পুরোপুরি মওকুফ করে দিতে পারেন। কিন্তু তাদের লক্ষ্য তো একটাই, খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে, এখন তাঁকে জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, চক্রান্ত করা হচ্ছে। সে কারণে তারা তাঁকে এই সুযোগ দিতে চাচ্ছে না।’

আগামীকাল বিএনপির ডাকা গণ-অনশনে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া যেন বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পান সেই আন্দোলনকে জোরদার করতে গণ-অনশনের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অন্য আলোচকদের প্রস্তাবের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি সকলের সঙ্গে একমত, এখানে ঐক্যবদ্ধ বড় আন্দোলন ছাড়া, অভ্যুত্থান ছাড়া এই সরকারকে সরানো সম্ভব নয়। এখানে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে যুগপৎ বা এক মঞ্চ, সেটা পরে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা শুরু করি যে যার জায়গা থেকে। দল থেকে পরিষ্কার আহ্বান আছে, আসুন আমরা সবাই একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য আন্দোলন করি।’

আইনমন্ত্রীকে ‘অপদার্থ, মূর্খ’ উল্লেখ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তিনি ঠিকমতো আইনও জানেন না। মান্না বলেন, ‘আমি সত্যি জানি না, বেগম জিয়ার অবস্থা কতখানি খারাপ। আমি যখন জিজ্ঞেস করেছি চিকিৎসককে যে অবস্থা আগের চেয়ে ভালো না খারাপ? ডাক্তার ভালো বলতে পারেননি।’ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে ও খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিএনপির নেতৃত্বে অন্য দলগুলোকে নিয়ে মঞ্চ তৈরির আহ্বান জানান মান্না।

গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক বলেন, আজকে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাব, আপনারা সবাই এক জায়গায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন, এই সরকারের অধীন আপনারা নির্বাচন করবেন না। খালেদা জিয়া মারা যাচ্ছেন, তাঁর চিকিৎসার মানবিক অধিকার নিয়েও ঠাট্টা-মশকরা করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দলটির ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান আইনজীবী সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ন্যাপের (ভাসানী) চেয়ারম্যান আইনজীবী আজহারুল ইসলাম প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এনপিপির সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং সঞ্চালনা করেন দলটির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন