টানা ৩৬ দিন ধরে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কার্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সরিয়ে নেওয়া হলেও কারা কার্যালয়ে যাচ্ছেন, তা লিখে রাখছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে গত দুই দিনে দলের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা ওই কার্যালয়মুখী হননি।
খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে এখনো কেব্ল টেলিভিশন (ডিশ) ও টেলিফোন সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়নি। ফলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ফ্যাক্স ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ওই কার্যালয়ের মধ্যে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কও দুর্বল।
গত ৩০ জানুয়ারি দিবাগত রাত পৌনে তিনটায় খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। এর পরদিন দুপুরের দিকে অন্য সেবা সংযোগগুলোও কাটা হয়। তবে প্রায় ১৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ৩১ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে বিদ্যুৎ-সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। কিন্তু অন্য সংযোগগুলো এখনো স্থাপন করা হয়নি।
গতকাল শনিবার বিকেলে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সাদা পোশাকের দুজন কার্যালয়ের প্রবেশ ফটকে টেবিল-চেয়ার ও খাতা নিয়ে বসে আছেন। তবে সংবাদকর্মীদের কার্যালয়ের ভেতরে যেতে বাধা দেওয়া হয়নি। খালেদা জিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা প্রবেশ ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন। বেশির ভাগ সময় কার্যালয়ে ঢোকার মূল ফটক এবং পকেট ফটকে ভেতর থেকে তালা দিয়ে রাখা হয়। কার্যালয়ের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ নেই। নিরাপত্তায় নিয়মিত যেসব পুলিশ সদস্য থাকেন, তাঁরা কার্যালয়ের উত্তর পাশে অলস সময় কাটাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনের রাস্তায়ও যাতায়াত স্বাভাবিক হয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকে নিজের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৫ জানুয়ারির কর্মসূচিকে ঘিরে প্রথম দিকে তাঁকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। তবে এখন সেখানে আর অতিরিক্ত পুলিশ নেই।
এদিকে গতকাল বেলা ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের কাছে বিক্ষোভ দেখান একদল দিনমজুর। তৃণমূল দিনমজুরের ব্যানারে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল কোদাল-ঝাড়ু।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন